বিশেষ কর্মসংস্থান কমিশন গঠনের পরামর্শ সিপিডির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:১৭ , জুন ১৭ , ২০১৭

 

সিপিডিসরকার বিনিয়োগের পলিসি গ্রহণ করলেও কর্মসংস্থানের কোনও পলিসি গ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পলিসিও করতে হবে। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান কমিশন গঠন করতে হবে।’ শনিবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে সিপিডির বাজেট সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপে বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মহীন প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছি। এত প্রবৃদ্ধি নিয়েও আমরা বেকার সমস্যা সমাধান করতে পারছি না। পুরো বাজেট কাঠামোতে গুণমান সম্পন্ন প্রকল্প ও বিনিয়োগ ইত্যাদি রেখে এর বাস্তবায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ দরকার। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসনসহ অন্যান্য খাতে সহায়ক পরিবেশ লক্ষ করা যায়নি।’

দেবপ্রিয় বলেন, ‘মূল মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা যদি না থাকে, তাহলে বাজেট প্রণয়ন ও বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব। বাজেটে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রণালয় অর্থমন্ত্রণালয়কে প্রযুক্তিগতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সক্ষম রূপে দেখিনি।’

সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে আরোহিত আবগারি শুল্ক বাড়ানোর সুযোগ নেই। এটি ভ্যাট আইনবিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘৫০০ টাকা বা ৮০০ টাকা নয়, আবগারি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। যেখানে ট্যাক্স থাকে সেখানে কোনও আবগারি শুল্ক থাকা উচিত নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশে বাড়ছে না। সুশাসনের অভাব রয়েছে, বেসরকারি খাত ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) পাচ্ছে না। ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যাও বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে।’

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের দাবি জানিয়ে  ড. আকবর আলি খান বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে বাজেট থেকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধান না হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে না।’

সিপিডির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফাহমিদা খাতুন।

সংলাপে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ দেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করবেন না। মানুষের ক্ষতি হয়, এমন কিছু বাজেটে থাকবে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর একটি বাজেট আমরা পাব, যেখানে কোনও সমস্যা থাকবে না।’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বাজেটকে আমরা প্রান্তিকের প্রান্তিক পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। এটি সর্বাধিক আলোচিত বাজেট। যে বাজেটকে লোহার গেট দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল, আমরা সেটাকে ওপেন করে দিয়েছি। গ্রামের সাধারণ মানুষও এখন বাজেট নিয়ে আলোচনা করে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক ব্রিটিশ আমল থেকেই ছিল। আস্তে আস্তে এটি বেড়েছে। আমরা এক লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্কমুক্ত করেছি। ঐতিহাসিকভাবে থাকা ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক আমরা খালাস করে দিয়েছি। ’

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে না। কারণ আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা নিয়ে সঠিক বিনিয়োগ করতে পারছি না। আমাদের শিক্ষিত সমাজ বেকার থেকে যাচ্ছে। আমরা মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ করছি। যারা স্বৈরাচার সরকার তারা মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ করে জনগণকে দেখাতে চায় উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে উন্নয়ন হয় না। কাজ সঠিক সময়ে শেষ হয় না, দফায় দফায় খরচ বাড়ে।’

মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমীন বলেন, ‘বাড়তি আবগারি শুল্কের কারণে ব্যাংক আমানতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া বর্তমান কাতার সংকটে প্রবাসী আয় কমারও আশঙ্কা রয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী অর্থবছর নিয়ে আমরা শঙ্কায় রয়েছি।’

সিপিডির এই সংলাপে  আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা, সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ, সাবেক সচিব সোহেল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরউল্লাহ চৌধুরী, সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।

 জিএম/এমএনএইচ/

 

x