মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে: তোফায়েল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:০৩ , অক্টোবর ১৩ , ২০১৭

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদরোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সমস্যাটি সমাধানের জন্য কূটনৈতিকভাবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াতে হবে।’
শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘শোকেস কোরিয়া-২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সরকার। ফলে এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।’ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক কোটি মানুষ প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের কষ্ট তাই আমরা বুঝতে পারি। সে কারণেই তাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তাদের নিজ ঘর-বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হবে। শোনা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলে শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮২৪ সালে বৃটিশ-বার্মা যুদ্ধে বৃটিশরা জয়লাভ করে। তখন থেকে আরাকান রাজ্যে মুসলমানরা সম্মানের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। এখন তাদের অবৈধ বলার সুযোগ নেই। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।’ এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কোরিয়া-বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কোরিয়ার সব কোম্পানি বাংলাদেশেই তাদের পণ্য তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের কোরিয়ার তৈরি পণ্য ক্রয়ের সক্ষমতা রয়েছে। এখানে পণ্য উৎপাদন করে রফতানি করলে কোরিয়াও লাভবান হবে। কোরিয়ার প্রায় দুইশ প্রতিষ্ঠান ইপিজেড এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছে। সেখানে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১ হাজার ২৬৮ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে রফতানি করেছে ২৩৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ইপিজেডে কোরিয়া সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। দেশটি বাংলাদেশকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। কোরিয়ায় পণ্য রফতানি করে এই ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব।’
কেবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অন সিঅং-ডু, এলজি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইডোয়ার্ড কিম, কোরিয়া ইপিজেডের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সাদাত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাব উদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শোকেস কোরিয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ শুরু হওয়া এই মেলা আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। কোরিয়ার ৩৬টি কোম্পানি তাদের পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিচ্ছে। এলজি, স্যামসাংসহ বিভিন্ন কোম্পনির ইলেকট্রনিক, মেশিনারিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে মেলায়। বিনাখরচে যে কেউ মেলায় ঢুকতে পারবে।
আরও পড়ুন-
বিআইবিএমের প্রতিবেদন: ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর পক্ষে ৭২ % ব্যাংকার

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x