ঋণ খেলাপির ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে প্রাইম ব্যাংক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০২:৩১ , এপ্রিল ১৭ , ২০১৮

‘এখন যেসব ঋণ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো যাতে কোনওভাবেই খেলাপি না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক। এছাড়া অতীতের খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণ ফেরত পেতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ সোমবার (১৬ এপ্রিল) ব্যাংকটির ২৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ।

প্রাইম ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনএ সময় তিনি প্রাইম ব্যাংক এসএমই ও কনজ্যুমার ব্যাংকিংকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেন। এজন্য ব্যাংকের শাখাগুলোকে শক্তিশালী করা, জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম রব্বানী, মো. তৌহিদুল আলম খান, সৈয়দ ফরিদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহেল আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক খাত যে একটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; এটা আমি মনে করি না। তবে বড় একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এক্ষেত্রে প্রাইম ব্যাংক স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একটি টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। চড়াই-উৎরাই থাকবেই, একটু ধৈর্য ধরতে হবে, রাতারাতি পরিবর্তন আসবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেষ্টা করছে, ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে পরিস্থিতি ভাল হতে শুরু করবে।’

এসএমই ও ভোক্তা ঋণ বাড়ানোর পরিমাণ জানতে চাইলে রাহেল আহেমদ বলেন, ‘২০১৭ সালে ব্যাংকের দেওয়া মোট ঋণের ২২-২৪ শতাংশ ছিল এসএমই ও ভোক্তা ঋণ, যা ২০২১ সাল নাগাদ ৪০ শতাংশ বা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।’

বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের ‘তারল্য সংকট’ সৃষ্টি হলেও প্রাইম ব্যাংকে এই সংকট নেই এমন মন্তব্য করে রাহেল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যেদিন ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) সীমা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৩.৫ শতাংশ বেঁধে দেয় সেদিনও আমাদের সিআরআর এ সীমার নিচে ছিল, আজও আছে। আমরা এ সময়েও নতুন গ্রাহকদের এক দেড়শ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সাল শেষে প্রাইম ব্যাংকের সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা। আর এককভাবে হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। গত বছরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল সমন্বিত ৫৫৯ কোটি টাকা। যা এককভাবে ছিল ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

/জিএম/এমও/

x