তিন কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার

শফিকুল ইসলাম ১৫:৫২ , জুলাই ১১ , ২০১৮

বাংলাদেশ-চীন

বাংলাদেশের জন্য তিন কারণে গুরুত্বপূর্ণ ‘বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’। এটি নির্মিত হলে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। নতুন ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পণ্য প্রস্তুতকারক এবং রফতানিকারকদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে এখানেই।  এই সেন্টারের মাধ্যমেই ঘটানো সম্ভব হবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন। একই সঙ্গে রফতানিকারক, উৎপাদন এবং ভোক্তাদেরকে নতুন ডিজাইন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সেসবের প্রয়োগ সম্পর্কে পরিচিতি করতেই বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ খুবই প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই এটি নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে (জিওবি) ৪৭৫ কোটি টাকা এবং  প্রকল্প সাহায্য বাবদ ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। 

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্প ঋণ বাবদ ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা চীন সরকারের অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল নিউ টাউনের ৪ নং সেক্টরের ৩১২ নং রোডের, ০০২ নং প্লটে নির্মিত হবে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। সূত্র আরও জানায়, ৩৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই সেন্টারে আধুনিক কার পার্কিং, সম্মেলন কক্ষ, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, বাণিজ্য তথ্য কেন্দ্র, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ডরমেটরি থাকবে। এ ছাড়াও এক্সিবিশন সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভিসহ আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ব্যবস্থাসহ, বিদ্যুতের জন্য নিজস্ব সাব সেন্টার, সার্ভিস রুম, অভ্যন্তরীণ রাস্তা,  কালভার্ট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদানে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হবে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০০৯ সালের জুলাই  থেকে ২০১২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম কর্ণারে খালি জায়গায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই সময় প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ছিল ২১০ কোটি টাকা। এবং জিওবি সুদমুক্ত ঋণ ও অনুদান ছিল ৬৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ওপর গত ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেগুলো হচ্ছে- ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশীফ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি চীনা অনুদান, জিওবি সুদবিহীন ঋণ ও অনুদান এবং ইপিবি’র নিজস্ব অর্থায়নে ২০১২ সারে ৩০ জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভূমির মূল্য অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা অনুযায়ী আন্ডারগ্রাউন্ড এ কার পার্কিং, ইউটিলিটি সার্ভিস-এর ব্যবস্থা রেখে সংশোধিত প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসহ পুনর্গঠন করে প্রকল্প ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে ডিপিপি জরুরি ভিত্তিতে পেশ করার জন্য বলে। পরবর্তীতে একনেক অনুমোদিত প্রকল্পটির জন্য উপযুক্ত জমি যথাসময়ে পাওয়া না যাওয়ায় এর নকশা তৈরি করে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা যায়নি। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে রাজউক পূর্বাচল উপশহরে মোট ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। ওই জমি বিবেচনায় রেখে বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেকচারাল ডিজাইন (বিআইএডি)  এর জন্য একটি পরিকল্পিত ডিজাইন তৈরি করে। ডিজাইন চূড়ান্ত করার আগেই বিআইএডি প্রকল্প এলাকায় সমীক্ষা পরিচালনা করে। সমীক্ষা পরিচালনার পর বিআইএডি জানায় যে, একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচ্য প্রকল্পের ডিজাইনে ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা অর্থনৈতিক এবং কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হবে না। ফলশ্রুতিতে বিআইএডি প্রস্তাবিত সেন্টারের ডিজাইনে ভূ-গর্ভস্থ কার পার্কিং এর পরিবর্তে এর নিচতলায় কার পার্কিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ডিজাইন প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেন। এ প্রেক্ষাপটে রাজউকের বরাদ্দ করা ২০ একর জায়গায় প্রস্তাবিত সেন্টার নির্মাণে মোট ৭৯৬ কোটি ১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালে ৪ আগস্ট একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে বাস্তবতার নিরীখে অতিরিক্ত জমি কেনা, নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ, সেন্টারের পরিসর বাড়ানো, সেন্টারটি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটি মোট ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সংশোধনের প্রস্তাব করা হলে ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল প্রকল্পটির ওপর পিইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে আরডিপিপি পুনর্গঠন করে তা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এটি নির্মিত হলে বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। প্রকল্পটি যথাসময়েই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এটি নির্মিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলাসহ সব ধরনের মেলা সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে।

 

/এসআই/টিএন/

x