যন্ত্রের হাসপাতাল ‘বিডি অ্যাসিস্ট্যান্ট’

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ১৭:৩৪ , সেপ্টেম্বর ১৩ , ২০১৮

বিডি অ্যাসিস্ট্যান্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেব্র্যাকের আয়োজন ‘আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে বিডি অ্যাসিস্ট্যান্ট। রংপুরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এটি। এর তিন উদ্যোক্তা আবু সাঈদ আল সাগর, মো. আল-আমিন ইসলাম ও উম্মে কুলসুম পপি। শহরতলির মানুষকে বাসাবাড়ি কিংবা অফিসের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের সার্ভিসিং, ইলেক্ট্রিক্যাল সার্ভিসিংসহ যেকোনও ধরনের মিস্ত্রী কিংবা টেকনিশিয়ানকেন্দ্রিক সেবা দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই উদ্যোগ।

বিডি অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলা হচ্ছে ‘যন্ত্রপাতির হাসপাতাল’। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষকে সেবা দিয়েছে তারা। কাজের সুযোগ করে দিয়েছে অন্তত ৪০ জন সার্ভিসিং অ্যাসিস্ট্যান্টকে। বর্তমানে চারটি ক্যাটাগরিতে ২০ ধরনের সার্ভিস দিচ্ছে তারা। ঘরে বসেই ফোন করে কিংবা বিডি অ্যাসিস্ট্যান্টের ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে সহজেই সেবাগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

তবে পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোক্তাদের কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সহ-প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন ইসলাম বলেন, “২০১৫ সাল থেকে আমরা এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু মূলধনের অভাবে এগোতে পারিনি। তখন আমরা দেশে অনেক বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। কয়েকটিতে আমরা সাফল্যও পাই। যেমন— বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত ‘ইউথফেস্ট ২০১৬’তে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি।”

সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবু সায়েদ আল সাগরের কথায়, ‘২০১৬ সালে ব্র্যাকের আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ছিল একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৫ লাখ টাকাসহ ছয় মাসের ইনকিউবেশন সহায়তা পাই। পরবর্তী সময়ে তারাই বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়। ফলে ব্র্যাক থেকেই আমরা পরবর্তী সময়ে ভালো অঙ্কের একটি বিনিয়োগ পাই। এককথায়, বিডি অ্যাসিস্ট্যান্টকে বাস্তবে রূপ দিতে আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের অবদান অনস্বীকার্য।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিডি অ্যাসিস্ট্যান্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা উম্মে কুলসুম পপি বলেছেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের সব জেলাসহ দেশের ৩০টি জেলায় আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইচ্ছে আছে। এক্ষেত্রে অন্তত ২ শতাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে আমাদের কার্যক্রমে যুক্ত করতে চাই। এভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে সার্ভিসিং কাজের জন্য বিশ্বস্ত হয়ে উঠবে বিডি অ্যাসিস্ট্যান্ট।’
এদিকে তরুণ-তরুণীদের কারিগরি দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিতে আবারও শুরু হলো ব্র্যাকের ‘আরবান ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। নিজেদের অভিনব যেকোনও উদ্যোগকে ঘিরে এতে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করা যাবে uic.brac.net ওয়েবসাইটে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর।

/জেএইচ/

x