৫০ শতাংশ মানুষের মতে কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল: সিপিডির জরিপ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০৩:০৭ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

সিপিডিবেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করে, এনবিআরের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। বৃহস্পতিবার(৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির সংলাপে এই তথ্য জানানো হয়।

সংলাপে সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, ‘কর ব্যবস্থা নিয়ে এক হাজার দুইশ’ মানুষের মধ্যে জরিপ চালিয়েছে সিপিডি। জরিপে অংশ নেওয়া  ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এনবিআরের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। আর ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, এনবিআরের কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে। সিপিডির জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ আয়ের ২৫ শতাংশ মানুষের এক তৃতীয়াংশ গত বছর আয়কর দেয়নি। যারা দিয়েছেন, তারাও পুরোপুরি দেননি। কর ফাঁকি দিয়েছেন। ’

দেশের কর ব্যবস্থায় অনুবর্তী অংশগ্রহণের মূল নির্ণায়কগুলো যাচাইয়ের জন্য সিপিডি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের ২১টি জেলায় কর প্রদানে সমর্থ ১২০০ ব্যক্তির ভেতরে একটি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বমূলক ধারণা জরীপ চালিয়েছে। জরীপে অংশগ্রহণকারী ৮৫% অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি মনে করেন সরকারি সেবার সরবরাহ এবং তার গুণগত মান বৃদ্ধি পেলে জনগন কর প্রদানে উৎসাহী হবেন। ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন কর ব্যবস্থায় ধনী-গরিবের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়। ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এনবিআরের সেবা ও তার গুণগতমান বাড়ালে জনগণ কর দিতে উৎসাহিত হবে।

সিপিডির সুপারিশে বলা হয়, কর অফিসকে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ধনী অথচ কর ফাঁকি দেন এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সমতাভিক্তিক কর ব্যবস্থা বিকশিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায্য এবং আধুনিক সম্পত্তি ও সম্পদ কর চালু করতে হবে।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কর আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছে এনবিআর। এর অংশ হিসাবে ঢাকার ফ্ল্যাট বাসায় খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে এখন ই-টিনের সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। কিন্তু তার মধ্যে ২০ লাখ রিটার্ন দিচ্ছে না। অন্যতম কারণ কর নিয়ে এক ধরনের ভয় আছে। তাই করদাতাবান্ধব এনবিআর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে সুশাসন জরুরি। সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন নেই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।’

তিনি বলেন, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে করছাড় দেওয়া হয়। এছাড়া কেউ অপরাধ করেও শাস্তি পায় না।

 বাংলাদেশে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আবাসিক প্রতিনিধি রাগনার গুডমান্ডসন বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বাংলাদেশে কর আদায় একেবারে কম। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৯ শতাংশ কর আদায় হয়। দক্ষিণ এশিয়াতে এটি সর্বনিম্ন।

 

/জিএম/এসএসএ/