ফুল খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন করা হবে: বিডা চেয়ারম্যান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৮:০৫ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮




ফুল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানফুল খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম ফুল খাতের সার্বিক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার গ্রোওয়ার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়শন’ নামে একটি সংগঠন স্থাপিত হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘তারা ফুলে খাতে নীতিসহায়তা প্রাপ্তিতে সরকার ও স্টেকহোল্ডাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হলো ‘ল্যান্ড অব ফ্লওয়ার’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে সমাজের নানাস্তরে ফুলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের দেশে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফুল চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা প্রদান প্রয়োজন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুল প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি ৭০টি স্টলঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪.৩২ শতাংশ এবং মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০.৬ শতাংশ কৃষিখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, ‘কৃষিভিত্তিক একটি পণ্য হিসেবে ফুলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি)-এর তথ্যমতে, সারা পৃথিবীতে ফুলের বাজার প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, বর্তমানে সার্বিকভাবে ফুলের বাজারমূল্য প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘ফুল একটি উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য এবং বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ২০টি জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে এবং ফুল খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি সরকার ও বেসরকারি উদ্যাগকে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

উল্লেখ্য, কনফারেন্সে প্রায় ৭০টি স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাবৃন্দ তাদের ফুল ও ফুল সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রদর্শন করছে। প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ড, ভারত এবং নেপালের ১২টি স্টল অংশ রয়েছে। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

/জিএম/টিটি/

x