‘তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই জাতীয় বাজেটে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০৪:৪৫ , মে ২২ , ২০১৯

‘যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ:বাজেটে প্রতিফলন কী’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না জাতীয় বাজেটে। সমন্বয়, বাস্তবায়ন, উদ্ভাবন ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমে ঘাটতিও প্রকট। মন্ত্রণালয়গুলোতে নানাভাবে, আলাদাভাবে বা যৌথভাবে তরুণদের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে তরুণদের জন্য পরিকল্পনা নেই। আবার মন্ত্রণায়গুলোর এই বাজেট ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয়েরও ঘাটতি আছে। এমন প্রেক্ষাপটে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে যে জনমিতিক সুবিধায় আছে তা একটা সময় পর বড় ধরনের অসুবিধায় পরিণত হবে।’
‘যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ:বাজেটে প্রতিফলন কী?’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২১ মে) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোটার্স ফোরাম যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গবেষণাপত্রটি তুলে ধরেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকার প্ল্যানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া। গবেষণায় বলা হয়, দেশের বর্তমান শাসন কাঠামো অনুযায়ী, ২২টি মন্ত্রণালয় যুব ও যুবকদের উন্নয়ন সম্পর্কিত। ২০১৮ সালের বাজেটে এই ২২টি মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে মোট বরাদ্দ ১ দশমিক ৬৬ লাখ কোটি টাকা যা পরবর্তীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৭ লাখ কোটিতে নেমে আসে। একই সময় মূল জাতীয় বাজেট চার লাখ কোটি থেকে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৭২ লাখ কোটিতে নেমে আসে, অর্থাৎ সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় এই ২২টি মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমার হার বেশি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, ‘তরুণরাই আমাদের দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ বাজেটে যুব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দরকার তা করা হচ্ছে না। এই বিনিয়োগ দুরাবস্থা আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগ না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা খুব খারাপ পরিস্থিতিতে পড়বো।’
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘বিশাল জনগোষ্ঠীর তরুণদের অপর্যাপ্ত বাজেট ও সরকারি ব্যয় সম্পর্কিত নীতিমালার অভাব দীর্ঘমেয়াদি জনমিতি’র সুফল আদায়ের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হতে পারে এবং দেশের প্রথম জনমিতিক সুবিধাকে একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে পারে। তাই জনমিতি’র সুফল আদায়ে যুবকদের জন্য বাজেটে খাতসমূহ সুনির্দিষ্ট এবং তাদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. তাহমিনা আখতার বলেন, ‘যুব উন্নয়নে বরাদ্দকৃত বাজেটের বাস্তবায়নকে ফলপ্রসূ করতে যুব ইস্যুতে সম্পর্কিত যে ২২টি মন্ত্রণালয় রয়েছে তাদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট করতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬১ দশমিক ৩ মিলিয়ন। এর মধ্যে ১০১ দশমিক ১০ মিলিয়ন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর। সরকারের হিসেবেই বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩ ভাগই তরুণ যাদের কর্মসংস্থান একটি বড় প্রশ্ন।’
বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘আমাদের বাজেট ও কর্মকাণ্ড তরুণদের ভালো মানসিকতা নিশ্চিত করতে পারছে না । ফলে তারা কোনও কাজ করতে উদ্দীপ্ত হয় না। আমাদের শিক্ষা কিংবা উন্নয়ন কাঠামো তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়।’
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ইশতেহারের ২য় নম্বরে তরুণদের জন্য কাজ করার কথা বলেছে। আমরা তরুণদের উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তবে এটা ঠিক আমরা তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করতে পারছি না ‘ তিনি বলেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বয় বাড়ানো দরকার। সেজন্য আমরা কাজ করছি।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, ‘যুব উন্নয়নের বিষয়টি বাজেটে গুরুত্ব না পেলে বর্তমানে বিশাল সংখ্যার তরুণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতে অভিশাপে পরিণত হতে পারে।’

প্রতিবেদনে সুপারিশ
জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গুণগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরালো, যুবকদের মানসিক, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে সংবেদনশীল করার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বরাদ্দ বাড়ানো, বাজেট সম্পর্কে জানতে ও বাজেট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে যুবকদের উৎসাহিত এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও যুবনীতির আলোকে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

 

 

/জিএম/ওআর/

x