সুন্দরবন রক্ষায় তিনটি কাজ করা হবে: তৌফিক-ই-ইলাহী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ১৯:২৮ , জুলাই ১০ , ২০১৯


তৌফিক-ই-ইলাহীরামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রর কাজ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন রক্ষায় মূলত তিনটি কাজ করা হবে। এরমধ্যে সুন্দরবনের স্ট্র্যাটেজিক সমীক্ষা করবে সরকার। আগামী আড়াই বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।  ফেব্রুয়ারিতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া একটি অ্যাকশনপ্ল্যান তৈরি করছে সরকার।’  বুধবার (১০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুন্দরবন নিয়ে ইউনেস্কোর প্রতিবেদন নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো মনে করে অন্যদেশগুলো সবসময় তাদের অধীনে থাকবে। এ কারণেই অনেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করেছেন। ইউনেস্কো যে সুন্দরবন  নিয়ে কমেন্ট করেছে, সেটি ছিল এক ধরনের স্টুপিড কমেন্ট।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের উপস্থাপিত প্রতিবেদন দেখার পর তারা কিছুটা লজ্জাও পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত সবশেষ মিটিংয়ে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এরমধ্যে পরিবেশ, পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতের বিশেষজ্ঞ ছিলেন। উন্নত দেশ সবসময় ভাবে, আমাদের কোনও জ্ঞান নেই। স্টাফিং সাপোর্ট যারা দেয়, তাদের কাছে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক ছিল না। আগে ইউনেস্কো রামপালের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এবার তারা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। মানচিত্রে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান দেখিয়ে বলেছি, পায়রা কোথায় আর সুন্দরবন কোথায়?’

উপদেষ্টা বলেন, ‘২১টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশ বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে। এ সময় একটি কাজের খসড়া করা হয়। তাতে প্রথমে আমরা সায় দেইনি। কিন্তু পরে চূড়ান্তটায় সায় দেই। সেখানে আমাদের সাতটি কাজের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘সুন্দরবনের আয়তন বেড়েছে। ১৯৯৬ সালে ছিল চার লাখ ৩৬ হাজার ৬৩৬ হেক্টর। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী তা বেড়ে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৩ হেক্টর। এ সময় ম্যানগ্রোভ বনের পরিমাণ ২৩ ভাগ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ ভাগ হয়েছে।’ 

দূষণের বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর থেকে যে কার্বন নিঃসরণ হয়, তা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কোনও প্রযুক্তি এখনও আবিষ্কার হয়নি। আমরাও কার্বন নিঃসরণ করি। গাছ তা টেনে নেয়। অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে নিঃসরিত সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণে এফজিডি  বসানো হচ্ছে। এতে ৯৯.৯৯ ভাগ ফ্লু গ্যাস নিঃসরণ কমানো সম্ভব। আর ছাই ধরতে এস ক্যাচার ব্যবহার করা হবে। ফলে ছাই বাতাসে বা নদীর পানিতে মিশবে না। আর বাকি থাকে পানি। পানি পুনঃব্যবহারের জন্য পরিশোধন করা হবে। এই পানি এতটাই নিরাপদ হবে যে,  পানযোগ্য হবে।’

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘আমরা সুন্দরবন সুরক্ষায় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখন সেটি অনুমোদনের জন্য প্ল্যানিং কমিশনে আছে।’

পরিবেশের সাবেক ডিজি সুলতান জানান, সুন্দরবন তথা মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৫৪টি শিল্প কল-কারখানা আছে। এরমধ্যে ২৪টি লাল চিহ্নিত। এ লালের অর্থ খুব ক্ষতিকর নয়। ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। এসব কারখানা আজকের নয়। ৬০/৭০ বছরের পুরনো। ফলে কারখানাগুলো পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। এছাড়া, ওই এলাকায় আর বড় কোনও শিল্পের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’ এমনকি রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট করা হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

/এসএনএস/এমএনএইচ/

x