জমে উঠেছে কাঁচা চামড়ার বাজার, সক্রিয় পাইকাররা

গোলাম মওলা ২২:১২ , আগস্ট ১২ , ২০১৯

কাঁচা চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এলেও সন্ধ্যার পর জমে উঠেছে রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় গড়ে ওঠা কাঁচা চামড়ার বাজার। রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে সংগৃহীত কাঁচা চামড়া জমা হচ্ছে সেখানে। ধানমন্ডি ৩২ থেকে সাইন্সল্যাব এলাকা পর্যন্ত এই বাজার বসেছে। এছাড়াও হাজারীবাগ এলাকাতেও পাইকার, ট্যানারি প্রতিনিধি ও আড়তদাররাও কোরাবানির পশুর চামড়া কিনছেন। এদিকে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অল্প দামেই পাইকারদের কাছে চামড়া ছেড়ে দিচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম কম হওয়াতে পাইকাররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) পাইকার রবিউল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি গড়ে ৫শ’ টাকা করে চামড়া কিনছেন। সবচেয়ে বড় ও ভালো চামড়া তিনি ৬শ’ টাকায় কিনতে পেরেছেন। তিনি ৫শ’ পিস চামড়া কিনেছেন।

রবিউলের মতো মোহাম্মদ মহসিন বলছেন, তিনিও ৬শ’ টাকায় ভালো চামড়া কিনতে পেরেছেন। তিনি ৪শ’ পিস চামড়া কিনেছেন গড়ে সাড়ে ৫শ’ টাকা করে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকার ও আড়তদারেরা সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের চেয়ে কমে চামড়া কিনছেন। লোকসান ঠেকাতে দ্রুত চামড়া বিক্রি করে চলে যাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকার কাঁচা চামড়ার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিক্রি করে চলে যাচ্ছেন। কথা হয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পাইকাররা চামড়ার দাম কম বললেও নেওয়ার ব্যাপারে এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে রাত বেশি হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে। এই আশঙ্কায় তাদের চাওয়া দামেই (গড়ে সাড়ে ৪শ’ টাকায়) সব চামড়া বিক্রি করে দিলাম।’

কাঁচা চামড়ার বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দাম চাচ্ছেন ৭শ’ টাকা থেকে এক হাজার দরে। তবে সাড়ে ৬শ’ টাকার বেশি দরে কোনও চামড়া নিচ্ছেন না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ফলে দাম দর নিয়ে বেশি সময়ক্ষেপন করছে না দু-পক্ষই।

পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাইন্সল্যাব এলাকায় গড়ে ওঠা বাজারের অর্ধেক চামড়া আজ রাতের মধ্যে সাভারের হেমায়েতপুরে চলে যাবে। সেখানে গিয়ে লবণ লাগানো হবে। বাকি ৩০ শতাংশ চামড়া যাবে হাজারীবাগে। আর ২০ শতাংশ চামড়া যাবে পোস্তায়। পরে হাজারীবাগ ও পোস্তা থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, এখন চামড়া ভালো আছে। রাতে এই চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যাবে। তখন আরও দাম কমে যাবে। তবে কিছু ফরিয়া বা মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে পাইকারদের কাছে চামড়া ছেড়ে দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

গুলশান এলাকা থেকে আসা আবুল হোসেন নামের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, তিনি বেশ কিছু চামড়া ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় কিনেছেন। কিন্ত পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে ৬শ’ টাকায়।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজন বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। তবে কিছু কিছু এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও অল্প দামে বেশ কিছু চামড়া কিনেছেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার কিনেছেন ২শ’ টাকারও কম দরে। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছেন ৩শ টাকা দরে।

এদিকে পুরান ঢাকার পোস্তায় দেখা যায়, আড়তদাররা চামড়া কিনে লবণ দেওয়া শুরু করেছেন।

আড়তদাররা জানান, দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ছোট ট্রাক, ভ্যানে করে কাঁচা চামড়া নিয়ে এসেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সব মিলিয়ে এবছর চামড়াখাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। অন্যান্য ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ নগদ টাকা দিলেও এবার সেখানে হাতেগোণা কয়েকজন টাকা পেয়েছেন।’

তিনি জানান, এবছর আমাদের ২৪৫ জন আড়তদারের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পারছেন।

প্রসঙ্গত, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। এবার চামড়ার দামকে মহাবিপর্যয় বলে অভিহিত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

/এএইচ/

x