চামড়ার দাম কমানোর সিন্ডিকেট ধরতে টাস্কফোর্স চান আড়তদাররা

গোলাম মওলা ১৯:০১ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

কাঁচা চামড়াকাঁচা চামড়ার দাম কমানোর নেপথ্যে থাকা নায়কদের খুঁজে বের করার জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। বুধবার (১৪ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ার দাম কেন কমলো। কারা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমালো। কেন আমরা চামড়া কিনতে পারলাম না, তা খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য সরকারকে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যদিও কাঁচা চামড়ার দাম কমানোর নেপথ্যে আড়তদারদেরকেই দায়ী করেছেন ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বুধবার (১৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, চামড়ার দাম না পাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী আড়তদাররা।

তিনি বলেন, বকেয়া টাকা আদায় হয়নি এমন দোহাই দিয়ে কোরবানির কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়ে ফায়দা লুটেছেন অসাধু আড়তদাররা। আড়তদাররাই সিন্ডিকেট করে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে। তারা পানির দামে চামড়া কিনেছে কিন্তু আমাদের কাছে যখন বিক্রি করবে তখন সরকার নির্ধারিত দামই নেবে।
এদিকে আড়তদারদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া কিনতে পারেননি। ফলে বাজারে চামড়ার দাম পড়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলছেন, চামড়ার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেন ট্যানারি মালিকরা। কাজেই সিন্ডিকেট সেখানেই হয়েছে। চামড়ার দাম কমানোর পেছনে মূলত তারা দায়ী।

সরিষার মধ্যে ভূত কোথা থেকে এলো এমন প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, এগুলো বের করা উচিত। আমাদের পাওনা টাকা তারা কেন আটকে রাখছে এটাও বের হওয়া উচিত। আমরা চাই সুষ্ঠু পরিবেশ। আর যেন কেউ কোনও দিন গরিবের টাকা মেরে খেতে না পারে সেদিকে সরকারের লক্ষ রাখতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ট্যানারি মালিকরা যেহেতু টাকা দেয়নি সেহেতু কাঁচা চামড়ার দাম কমার দায়ভারও তাদেরকেই নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানিয়েছেন, ‘আমাদের নাকি তারা টাকা দিয়েছেন। আমাদের যদি টাকা দিয়েই থাকে, তাহলে তারা ডক্যুমেন্ট দেখাক। কোরবানির আগের রাতেও তারা আমাদের বলেছে এক টাকাও দিতে পারবো না। এখন চাপে পড়ে তারা নানা ধরনের কথা বলছেন। তারা মিথ্যা বলছেন।’

এদিকে বুধবার বিকেলে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের ডেকে পাঠানো হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। সেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দেশে প্রথমবারের মতো কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মানুষ যেন কাঁচা চামড়ায় ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। অবশ্য চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কাঁচা চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

তারা বলছেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হলে কোরবানিদাতারা চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাবেন।

আড়তদারদের সংগঠনের নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ হলে ট্যানারি মালিকদের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। টাকার সমস্যাও থাকবে না। আর গরিবের হকও নষ্ট হবে না।

/টিএন/এমওএফ/

x