বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকের ১২টির মধ্যে ১০টি সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:১৮ , অক্টোবর ১০ , ২০১৯

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিশ্বব্যাপী একযোগে প্রকাশ করা প্রতিবেদন

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকের ১২টির মধ্যে ১০টি সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ। আর এগিয়েছে মাত্র দুটি সূচকে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ এর বিচারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার বৈশ্বিক সূচকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে এবার বাংলাদেশের অবনমন হয়েছে ২ ধাপ। বুধবার (৯ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ ) সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

ফোরামের ‘গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস রিপোর্ট ২০১৯ বলছে, এবার ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে ১০৫তম অবস্থানে। আগের বছর ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৩তম অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে ১৩৫ দেশের মধ্যে ছিল ১০২তম অবস্থানে। বুধবার (৯ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বিশ্বব্যাপী একযোগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর।

ডব্লিউইএফ-এর সহযোগী হিসেবে সিপিডি ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে “বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৯” ও “বাংলাদেশের ব্যবসা পরিস্থিতি প্রতিবেদন ২০১৯” প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ প্রতিবছর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনটি তৈরি করে। একটি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশ কতটা সহায়ক এবং প্রতিযোগিতায় সক্ষম, সেটাই এই সূচক দিয়ে বোঝানো হয়।

২০১৮ সালে বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশ কতটা প্রতিযোগিতা সক্ষম ছিল, তা-ই এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদন তৈরিতে ১২টি সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সূচকের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০টিতেই পিছিয়েছে।

যেসব সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়েছে সেগুলো হলো সামষ্টিক অর্থনীতি, শ্রমবাজার, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, অবকাঠামো, পণ্য বাজার, প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন এবং বাজারের আকার। অন্যদিকে এগিয়েছে দক্ষতা ও স্বাস্থ্যসূচকে।

এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ ভিত্তিক সূচকে সব মিলিয়ে এবার বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ৫২, যা গতবছরের স্কোরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১ কম।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, সূচকের মানদণ্ডগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য, দক্ষতায় বাংলাদেশের উন্নতি হলেও প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও পণ্য বাজার পরিস্থিতিতে স্কোর কমেছে। অবকাঠামো, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শ্রম বাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, বাজারের গতিশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতায় এবার স্কোর হয়েছে গতবারের সমান।

এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। ৬১.৪ স্কোর নিয়ে ভারত আছে সূচকের ৬৮ নম্বরে। তবে গতবারের চেয়ে দেশটির ১০ ধাপ অবনমন ঘটেছে। শ্রীলঙ্কা ৫৭.১ স্কোর নিয়ে সূচকের ৮৪তম, নেপাল ৫১.৬ স্কোর নিয়ে সূচকের ১০৮তম এবং ৫১.৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকের ১১০ নম্বরে রয়েছে।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় বাংলাদেশ চতুর্মুখী সমস্যায় আটকে গেছে। একদিকে অবকাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের কথাও চিন্তা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া সুশাসনের অভাবও আছে। তিনি বলেন, বড় ধরনের সংস্কার করা না হলে উন্নত দেশ বা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া কঠিন হবে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে সিপিডি প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ ব্যবসায় পরিবেশ সমীক্ষা ২০১৯ করেছে। এই সমীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ৭৭টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ করা হয়। সুশাসন সম্পর্কে জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সরকারি ঠিকাদারি কাজ পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে। ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনায় ঘুষ দিয়েছেন। ৭৪ শতাংশই কর পরিশোধের সময় ঘুষ দিয়েছেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য যদি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে থাকে, তাহলে একচেটিয়া হয়। এটি অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। একক ব্যবসায়ীর হাতে যদি একটি ব্যবসা খাত থাকে, তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ওই ব্যবসা খাতে আসতে পারেন না। ভোক্তাকে বেশি দাম দিয়ে ওই পণ্য বা সেবা কিনতে হয়।

বিশ্বে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার দিক দিয়ে এবারের সূচকের শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর; এশিয়ার এই দেশটির স্কোর ৮৪ দশমিক ৮। সূচকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় স্থানে রয়েছে হংকং। এরপরই রয়েছে নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জাপান, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্ক। এই দশটি দেশ গতবারের সূচকেও শীর্ষ দশে ছিল।

 

/জিএম/টিএন/

x