শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট দূর করতে ৮ দফা সুপারিশ

সঞ্চিতা সীতু ২০:৪০ , নভেম্বর ০৬ , ২০১৯


56c75d76cb50346d1e31e3f49b5d9c32-5dbd9a7711557শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ ও নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ ৮ দফা  সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানির সমস্যা সমাধানে গঠিত স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (ইপিআরসি)-এর চেয়ারম্যান সুবীর কিশোর চৌধুরী বিদ্যুৎ বিভাগে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটি তাদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট শিল্প এলাকায় কারখানা স্থাপনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ইতোমধ্যে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় সরকার বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহে অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে, এসব এলাকার কারখানাকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দিতে। কমিটি মনে করছে, শিল্প মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন এই কাজে উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে পারে।

গত ১৪ অক্টোবর বিদ্যুৎ ভবনে শিল্প কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেমিনার করে ইপিআরসি। সেমিনারে বিটিএমএ, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের পর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ জ্বালানির সমস্যা সমাধানে স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর ইপিআরসির চেয়ারম্যান সুবীর কিশোর চৌধুরীকে সভাপতি করে একটি ২০ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।’

কমিটির সুপারিশগুলো হচ্ছে, চাহিদার ভিত্তিতে শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ২৪ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ চলমান রাখা। এখন শিল্পে ১৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাক-অনুমতি (ছাড়পত্র)সহ  টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্থাপিতব্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। এছাড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছে কমিটি। আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর জ্বালানি দক্ষতা ন্যূনতম ৩০ ভাগ এবং পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম ৩৫ ভাগ নির্ধারণ ও ৬০ ভাগ বা তারচেয়ে বেশি জ্বালানি দক্ষতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দিতে হবে। এছাড়া, সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক গ্যাস ভলিউম ক্যারেক্টর (ইভিসি) মিটার চালু করা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি স্থাপন ও ব্যবহারে উৎসাহ প্রণোদনা দেওয়া, শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেট মিটারিং সিস্টেম স্থাপন ও ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই—এমন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে নতুন কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন না করে বেজার (বেজা) বিভিন্ন ইকোনমিক জোনে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া, ইমেইলের মাধ্যমে শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা সংক্রান্ত অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাকে জানানোরও সুপারিশ করা হয়।

সূত্র জানায়, শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনশীল চাহিদা ও সরবরাহের আলোকে সময়ে সময়ে সমাধানের সুপারিশ করার লক্ষ্যে স্থায়ী কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত বা যুগ্মসচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধিকে কো-অপ্ট করার সুপারিশ।

ইপিআরসির চেয়ারম্যান সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, ‘শিল্পে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে ২০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এরইমধ্যে তাদের সুপারিশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কাছে জমা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আমরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আশা করি, শিল্পে আর সমস্যা থাকবে না। তবে কিছু সুপারিশ তাৎক্ষণিক আবার কিছু সুপারিশ দীর্ঘমেয়াদের জন্য করা হয়েছে।’

কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে আছেন একজন অতিরিক্ত সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পেট্রোবাংলা, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিডিজিসিবি),গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)-এর একজন করে প্রতিনিধি। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর একজন পরিচালক, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর একজন প্রতিনিধি, তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন করে অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা),  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ),বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর দুইজন করে প্রতিনিধি আছেন। এছাড়া বিইআরসির একজন্য প্রতিনিধি আছেন কমিটিতে।  

/এমএনএইচ/

x