খেলাপি ঋণ অবলোপনের বড় সুযোগ চায় ব্যাংকগুলো

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ০০:২১ , নভেম্বর ০৮ , ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ কমাতে অবলোপন নীতিমালায় বড় ছাড় চেয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা। তারা মন্দমানের ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রেখে সঙ্গে সঙ্গে অবলোপন করার সুযোগ চেয়েছেন গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তাতে সায় দিয়েছে। তবে আরও পরীক্ষা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, ঋণ আদায় না হলেও কাগজ-কলমে খেলাপি ঋণ কমবে। অবলোপন করার জন্য শতভাগ প্রভিশনও লাগবে না। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপনে মামলা করতে হবে না।


বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এসময় ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী।

অবশ্য অবলোপন নীতিমালায় বড় ছাড় দেওয়া ভালো চোখে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, অবলোপন নীতিমালায় ছাড় দেওয়া হলে ব্যাংক খাত আরও ঝুঁকিতে পড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলছেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কঠোর হওয়া দরকার। কিন্তু উল্টো ঋণ অবলোপন নীতিমালায় ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়বে।’ তিনি খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাগিদ দেন।

প্রসঙ্গত, প্রচলিত নিয়মে খেলাপি হওয়ার পরেও অবলোপন করতে হলে ব্যাংকগুলোকে তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। অর্থাৎ ব্যাংকের ব্যালান্সশিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন নীতিমালা অনুসারে কমপক্ষে তিন বছর আদায়ের চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু এখন ব্যাংকগুলো চাচ্ছে খেলাপি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা যাতে ওই অবলোপন করতে পারে।

মূলত, খেলাপি ঋণ পাঁচ বছর ধরে আদায়ের চেষ্টার পর ব্যর্থ হলে অবলোপন করার সুযোগ পেত ব্যাংক। সর্বপ্রথম আট মাস আগে অবলোপন নীতিমালায় ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ব্যাংকগুলোকে তিন বছর খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সময় বেধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।



মূলত, ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দমানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালান্স শিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন বলে। ২০০৩ সাল থেকে ব্যাংকগুলো ঋণ অবলোপন করে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বছরের জুন মাস শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কু-ঋণ বা মন্দ ঋণের পরিমাণ ৯৭ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা।

অবলোপনের বড় ছাড় পেলে কু-ঋণের পুরোটাই খেলাপির হিসাব থেকে বাদ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ নীতিমালা কার্যকর হলে খেলাপি ঋণ দাঁড়াবে মাত্র ১৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জুন শেষে মোট অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা।





/জিএম/এএইচ/

x