প্রথমবার মানিক সরকার দর্শন ও এবারের নির্বাচন

গোলাম মোর্তোজা ০৯:০৮ , মার্চ ১১ , ২০১৮

গোলাম মোর্তোজাভারতের ছোট রাজ্য ত্রিপুরায় বিধানসভার নির্বাচন হয়ে গেলো গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। ফল ঘোষণা হয়েছে ৩ মার্চ। মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) পরাজয়, বিজেপির বিজয় নিয়ে হতাশাজনক আলোচনা সর্বত্রই পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিপ্লব দেব নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষের উল্লসিত হওয়ার কথা। কিন্তু তা তো হয়ইনি, উল্টো মানিক সরকারের পরাজয়ে হাহাকার দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচনের আগে মানুষ বিস্মিত হয়ে ২০ বছর ধরে টানা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সততার নজির প্রত্যক্ষ করেছে। তার ব্যাংক হিসাবে যখন মানুষ দেখেছে, উত্তোলনযোগ্য টাকার পরিমাণ মাত্র ২৪১০, তখন সাধারণ জনমানুষ যেন বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। এও কি সম্ভব! এমন একজন মানুষও যদি ভোট না পান, তবে সততার মূল্য কোথায়? মানুষের এই বিস্মিত হওয়া বা প্রশ্ন তোলাটা অস্বাভাবিক নয়। গণমাধ্যমের সরবরাহ করা তথ্যে নির্বাচনি ফলের নেপথ্যের কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব পরিষ্কার হয়নি। এক ধরনের অতি সরলীকরণ হয়েছে, প্রায় সব আলোচনায়। ব্যক্তি মানিক সরকার ও ত্রিপুরার এবারের নির্বাচন নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো। শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক বলে রাখি, বেশ খানিকটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে হবে এই লেখায়।

১. ‘মানিক সরকার মুখ্যমন্ত্রী হয়েও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না। রিকশা করে অফিসে যান। তার স্ত্রী সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না। বাসে করে অফিসে যান। তাদের নিজেদের করা কোনও সম্পদ নেই। সামান্য পারিবারিক সম্পদ আছে। মানিক সরকারের ব্যাংকে আছে আড়াই হাজার রুপির মতো।’

নির্বাচনের আগে থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব সংবাদ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল। বিস্ময় জাগানো সংবাদগুলো অসত্য নয়। শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গাড়ি ব্যবহারের সংবাদটি সম্ভবত ঠিক নয় বা অতি আবেগজনিত কারণে কিছুটা অতিরঞ্জিত।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি আছে। বেনাপোল ও চেঙ্গরাবান্ধা দিয়ে ভারতে গিয়েছি অনেকবার। ত্রিপুরায় গিয়েছি মাত্র একবার, সম্ভবত ২০০৩ সালে। ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালুর চুক্তি উপলক্ষে। তখন বিআরটিসির চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি নিজের অফিসিয়াল গাড়ি নিয়ে যাবেন। সমস্যা হলো বর্ডারে গিয়ে। ড্রাইভারের ভিসাজনিত জটিলতা। চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকার নিজে গাড়ি চালিয়ে সীমান্ত পার হলেন। আগরতলা শহরেও নিজে গাড়ি চালালেন। যা বেশ প্রশংসনীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হলো। যাই হোক মানিক সরকার বিষয়ে ফিরে আসি।

যাওয়ার আগে মেনন ভাইকে (রাশেদ খান মেনন) বললাম, মানিক সরকারের সাক্ষাৎকার নিতে চাই। মেনন ভাই ফোন করলেন, মানিক সরকারকে পেলেন না। যিনি ফোন ধরলেন, তাকে বলে রাখলেন। চিঠি লিখে দিলেন। দেরিতে রওয়ানা দেওয়ায় আগরতলা পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। সন্ধ্যা ছয়টায় মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা। হোটেল থেকে রিকশা করে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছলাম সন্ধ্যা সাত টায়। গেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই কঠোর মনে হলো। শরীর ঘর্মাক্ত, টিশার্ট-জিনস-পঞ্জ একজন মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিতে আসার জন্যে মোটেই মানানসই পোশাক যে পরে আসিনি, গেটে এসে মনে হলো। তখন আর কিছু করার নেই। একজন নিরাপত্তারক্ষীকে পরিচয় দিলাম। ম্যাজিকের মতো কাজ হলো। দেখলাম গেটে জানানো ছিল। নির্ধারিত সময়ে সোয়া ঘণ্টা পরে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের রুমে ঢুকলাম।

২. সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে মানিক সরকার বসে আছেন। বেশ বড় রুম। কাঠের চেয়ার-টেবিল। বেতের সোফা। রুচিসম্মতভাবে সাজানো-গোছানো। রুমে দু’টি ফ্যান। একটি বন্ধ, একটি তার মাথার ওপর ঘুরছে। কপালে ঘাম। বাহ্যিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, ক্লান্ত শরীরে চেয়ারে বসে আছেন মানিক সরকার। আগরতলায় তখন প্রচণ্ড গরম। ঘেমেই রুমে ঠুকেছি। রুমে বসেও ঘামছি। মনে মনে ভাবছি, এসি বন্ধ কেন, রুমের চারিদিকে তাকাচ্ছি।

বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন মানিক সরকার। হাসি দিয়ে বললেন, ‘আমাদের রাজ্যে গরিব মানুষের সংখ্যা অনেক। আমরা মূলত তাদের জন্যই কাজ করি। এসব গরিব মানুষই আমাদের ভোট দেয়। তাদের সাধারণ কত সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। তাই নিজেরা এসি ব্যবহার করি না। সুযোগ-সুবিধা যত কম নেওয়া যায়, সেই চেষ্টা করি।’

এতদিন অবাক হওয়ার গল্প শুনেছি, প্রথম তা প্রত্যক্ষ করলাম।

মানিক সরকার নিজে থেকেই বললেন, ‘আপনাদের আসতে দেরি হয়ে গেছে। আপনি ক্লান্ত। আমিও খুব ক্লান্ত। আপনার জন্যই বসে ছিলাম। তা না হলে এক ঘণ্টা আগেই আজ বেরিয়ে যেতাম। সারাদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। কিছু যদি মনে না করেন, আজ বাদ দেই। আপনার সঙ্গে কাল সকালে কথা বলি। সকাল সাড়ে সাতটায় আপনি বাসায় চলে আসুন। নাস্তা করতে করতে কথা বলবো।’

একজন মুখ্যমন্ত্রী কত সাধারণ হতে পারেন, আর আমাদের মন্ত্রীরা...ভাবতে ভাবতে হোটেলের এসি রুমে ফিরে এলাম।

৩. ‘এখানেই মুখ্যমন্ত্রী থাকেন’- রিকশাওয়ালা বললেন। ইটের দেয়াল ঘেরা বিশাল বড় এলাকা। এত বড় বাড়িতে মানিক সরকার থাকেন? রিকশায় যেতে যেতে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো। বাড়ির গেটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখলাম, পুরো এলাকার ভেতরে ছোট ছোট অনেকগুলো বাড়ি। অন্য মন্ত্রীরাও এখানে থাকেন। ছোট বাড়িগুলোর একটিতে থাকেন মানিক সরকার। বাড়িটি জেলা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের থাকার মতো। সরু সিঁড়ি দিয়ে দো’তলায় উঠে গেলাম। কালো রঙের তিন সিটের দু’টি সোফা সামনাসমানি রাখা। আট নয়’শ স্কয়ারফিটের বাসার ড্রয়িং রুম যত বড় হয়, তার চেয়ে বড় নয়। ড্রয়িং রুমে রুটি, আলু-পেঁপে  ভাজি, ডিম ভাজি সামনে নিয়ে বসে আছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। নাস্তার পরে পাকা আম খেতে খেতে সাক্ষাৎকার নিলাম। কথা বললাম একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে।

বামফ্রন্ট, জ্যোতিবসু, ত্রিপুরার রাজনীতি, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ—সব বিষয় নিয়ে কথা বললেন। সাক্ষাৎকার শেষে বললেন, আমাকে এখনই বের হতে হবে। নিচে তার জন্য অতি সাধারণ অ্যাম্বাসেডর নন এসি গাড়ি অপেক্ষা করছে। অকারণেই লেখার শুরুতে ‘রিকশায় অফিসে যান’ তথ্যটি নিয়ে সন্দেহপোষণ করেছিলাম। কারণ নিরাপত্তার কারণে গেটে কড়া পাহারা এবং রিকশা নয়, গাড়ি ব্যবহার করতে দেখেছি মানিক সরকারকে। ১৫ বছর আগে দেখা মানিক সরকার যে বদলে যাননি, ব্যাংকের আড়াই হাজার টাকা তো তারই প্রমাণ। ভারতের ২৯টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে মানিক সরকার দরিদ্রতম। নিজস্ব ঘরবাড়িহীন মানিক সরকার স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, দলীয় কার্যালয়ের তিন তলার দু’টি রুমে।

জীবন কত সাধারণভাবে যাপন করা যায়, সাক্ষাৎকার নেওয়ার পুরো সময় এবং পরেও ভাবছিলাম। গত কিছুদিন সেই ভাবনাটা আরও বড়ভাবে সামনে এসেছে। এরকম একজন মানুষের নেতৃত্বে থাকা সিপিএমকে ত্রিপুরার মানুষ ভোট দিলো না কেন? সততা-নৈতিকতার কি কোনও মূল্য নেই রাজনীতিতে? এবার সেদিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া যাক।

৪. ত্রিপুরা বিধান সভার বিগত ১৩ টি নির্বাচনের ৮ টিতে বিজয়ী হয়েছে সিপিএম। গত ৩৪ বছর ধরে একনাগাড়ে জেতার রেকর্ড ছিল কমিউনিস্টদের। এর মধ্যে মানিক সরকার ছিলেন টানা ২০ বছর ধরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় লোক সভার ৫৪৫ আসনের মধ্য ত্রিপুরায় আসন মাত্র ২টি। একটি আবার ‘শেডিউল ট্রাইব’দের জন্য সংরক্ষিত। বিধান সভার আসন ৬০টি। এবারের আগে বিধান সভার কোনও নির্বাচনে বিজেপি, আরএসএস বা হিন্দুত্ববাদী কোনও সংগঠন একটি আসনও পায়নি। এবারের নির্বাচনে বিজেপি আসন পেয়েছে ৩৫টি, জোটগতভাবে ৪৩ টি। সিপিএম পেয়েছে ১৬ টি। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯২ শতাংশ। ২০১৩ সালে ভোট পড়েছিল ৯৩ শতাংশ। তার আগের নির্বাচনেও ৯০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছিল।

এবার শতকরা হিসেবে বিজেপি ৪৩ শতাংশ, সিপিএম ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দশমিক ৪ শতাংশ ভোট আসনের ক্ষেত্রে এত বড় ফারাক তৈরি করেছে।

ত্রিপুরায় সিপিএমের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিল কংগ্রেস। ২০১৩ সালের নির্বাচনে সিপিএম ভোট পেয়েছিল ৪৮ শতাংশ, কংগ্রেস পেয়েছিল ৩৬ শতাংশ। বিজেপির অস্তিত্ব ছিল না। এবার কংগ্রেস ভোট পেয়েছে ১.৮ শতাংশ। ৫ বছরের ব্যবধানে কংগ্রেসের প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট কোথায় গেলো? সিপিএমের প্রায় ৫ শতাংশ ভোট কমলো কেন?

৫. কিছু প্রশ্নের উত্তরের জন্য একটু পেছনে ফিরতে হবে।

ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের শাসন মানে বাঙালিদের শাসন। ত্রিপুরায় অনেকগুলো ট্রাইবাল-আদিবাসী বা উপজাতি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ৭০-৭৫ বছর আগে ট্রাইবাল জনগোষ্ঠী ছিল ৫৩ শতাংশ। কালক্রমে ট্রাইবালরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাঙালিরা। এখন বাঙালির সংখ্যা ৭০ শতাংশের ওপরে। ট্রাইবাল বা আদিবাসীদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। ব্রিটিশ শাসনে ‘স্বাধীন রাজ্য’ ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল দেশ ভাগের দুই বছর পর, ১৯৪৯ সালে। স্বাধীনচেতা আদিবাসীরা শাসন ব্যবস্থার অংশ হতে না পেরে বহু বছর ধরে তাদের ভেতরে একটা ক্ষোভ ছিল। তাদের বেশ কয়েকটি সংগঠন সশস্র সংগ্রাম করেছে বহু বছর ধরে। সিপিএমের শাসন ব্যবস্থায় তারা যে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিল, বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। সরকারি চাকরি ও স্কুলভর্তিতে আদিবাসীদের জন্য ৩১ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করেছিল সিপিএম সরকার। তাতেও আদিবাসীদের সন্তুষ্ট করা যায়নি। আদিবাসী সংগঠন ‘পিপলস ফ্রন্ট’(আইপিএফটি) ত্রিপুরা ভেঙে নতুন একটি রাজ্য ‘টিপরাল্যান্ড’ গঠনের জন্যে আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এটা মূলত বাঙালি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আদিবাসী তরুণদের গড়ে তোলা এই আন্দোলন, সব বয়সী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নির্বাচনে এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। তারা জোট করেছিল আইপিএফটি’র সঙ্গে। মোদি সরকার তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, দাবিগুলো সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

সেকারণে নির্বাচনে আদিবাসীদের সব ভোট বিজেপি পেয়েছে। আইপিএফটি’র ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই বিজয়ী হয়েছে। তারা ভোট পেয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিজেপির আরেকটি কৌশল ছিল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দলে টেনে নেওয়া। শুধু কেন্দ্রীয় নয়, তৃণমূল পর্যায়ের কংগ্রেসের নেতারাও বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে। প্রথমত,  তারা প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমকে হারানোর জন্যে বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে। দ্বিতীয়ত,  দীর্ঘ সময় বিরোধী অবস্থানে থাকা কংগ্রেসের নেতাদের নানা রকম সুযোগ- সুবিধা দিয়েছে, দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে ত্রিপুরার মানুষ মানিক সরকারের সততা-নৈতিকতার মূল্য দেয়নি, এত সরলভাবে তা বলে দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারে থাকার সুবিধা এবং নানা রকমের নৈতিক-অনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিজেপি ত্রিপুরায় বিজয়ী হয়েছে। সিপিএম বা মানিক সরকাররা সরকার গঠন করতে না পারলেও, ভোট পেয়েছেন মাত্র দশমিক ৪ শতাংশ কম।

ত্রিপুরা ভেঙে আলাদা রাজ্য ‘টিপরাল্যান্ড’ গঠন করার দাবি মেনে নেওয়া বিজেপির জন্যে সহজ হবে না। আইপিএফটি ‘টিপরাল্যান্ড’ গঠন করতে চায় ত্রিপুরার ৬৮ শতাংশ এলাকা নিয়ে। ৩০ শতাংশ ট্রাইবালরা এর সমর্থক, ৭০ শতাংশ বাঙালি এর বিরুদ্ধে। কংগ্রেসও এই দাবির পক্ষে থাকতে পারবে না। ফলে আদিবাসীদের সঙ্গে বিজেপির সংসার খুব বেশি দিন সুখে-শান্তিতে কাটবে বলে মনে হয় না। আর নির্বাচনে মানিক সরকাররা পরাজিত হলেও, প্রমাণ হয়েছে যে সাংগঠনিক সামর্থ্য এবং জনসমর্থন দুর্বল হয়ে যায়নি। মার্ক্স-লেনিনের ভাস্কর্য ভাঙাসহ শুরুতেই যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সূচনা করেছে বিজেপি, তা পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। ৬৯ বছর বয়সী মানিক সরকার ৭৪ বছর বয়সে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবেন বলেই ধারণা করি।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

x