যুক্তফ্রন্টের ‘খোয়াবনামা’

প্রভাষ আমিন ১৬:৩১ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

প্রভাষ আমিনরাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এনে তৃতীয় ধারা সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষায় পাঁচটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা ছিল অনেক দিন ধরেই। তবে জন্মের আগেই গণ্ডগোল লেগে যায় যুক্তফ্রন্টে। এক স্বপ্নে যাত্রা শুরু করলেও গণফোরাম আর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে বাইরে রেখেই যুক্ত হয় বিকল্পধারা, জেএসডি আর নাগরিক ঐক্য। পরে গণফোরামের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের ঐক্য হলেও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বাইরেই রয়ে গেছে। মুখে তৃতীয় শক্তি হওয়ার লক্ষ্যের কথা বলে মাঠে নামলেও দ্রুত বিএনপির দিকে ঝুঁকে গিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তৃতীয় শক্তি নয়, তাদের আসল লক্ষ্য বিএনপির কাঁধে চড়ে ক্ষমতায় যাওয়া। সেটা তারা করতেই পারেন। রাজনীতি করলে ক্ষমতায় যেতে চাওয়া দোষের কিছু নয়। সমস্যা হলো যে গণতন্ত্রের কথা বলতে বলতে তারা নিত্যদিন মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে; তারা কত ভোট পাবেন, এটা নিশ্চয়ই তারা ভালো করেই জানেন। তবে অদৃশ্য ইঙ্গিতের জোরে সেই জানাটাকে পাত্তা না দিয়েই তারা ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর। যুক্তফ্রন্টের গণতন্ত্রের মানসপুত্ররা জনগণের ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় যেতে চান।

তিন দলের যুক্তফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর তারা বিএনপির সঙ্গে মেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে যায়। বিএনপিও যুক্তফ্রন্টকে কাছে পেতে ব্যাকুল ছিল। এই ব্যাকুলতা নিয়ে মির্জা ফখরুল গত ১ জুলাই ছুটে গিয়েছিলেন, যাকে একসময় বঙ্গভবন থেকে তাড়িয়েছিলেন, মহাখালীতে রেললাইনে দৌড়ানি দিয়েছিলেন; সেই বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায়। সেখানে বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি ঐক্য নিয়ে নানা কথা হয়েছে। তবে সে বৈঠকে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী বিএনপির কাছে ১৫০ আসন দাবি করেন। একথা শোনার পর প্রথমে আমি বিশ্বাস করিনি। ভেবেছি, গুজব বা ফেসবুকের ফান পোস্ট। পরে জানলাম ফান নয়, মাহি বি চৌধুরী সত্যিই ১৫০ আসন চেয়েছেন। শুনে আমি হাসবো না কাঁদবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুনে আমার খালি মনে হয়েছে, বিএনপি যদি পাগল হয়ে তাদের দাবি মেনে নেয়ও– বিকল্পধারা, জেএসডি আর নাগরিক ঐক্য ১৫০ আসনে প্রার্থী দিতে পারবে তো? নিজেদের জোরে বাংলাদেশের কোনও প্রান্তে তাদের প্রার্থী জামানত ফিরিয়ে আনতে পারবেন? যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও হয়, যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীর ভোট লাখের ঘর ছোঁবে না। সেই তারাই কিনা ১৫০ আসন চায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ১৫০ আসন চাওয়া ‘কোনও বাত কী বাত’ নয়। এটা তাদের সুচিন্তিত মতামত। যদিও এখন সবাই বলছেন, এটা মাহি বি চৌধুরীর ব্যক্তিগত মত, যুক্তফ্রন্টের নয়। তবে ১৫০ আসন চাওয়ার পেছনে মাহি বা যুক্তফ্রন্টের একটা দারুণ ব্যাখ্যা আছে। বড় দলগুলো নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে। কিন্তু নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে ছোট দলগুলোকে ভুলে যায় বা পাত্তা দেয় না। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ অবস্থা যাতে না হয়, সে কারণেই যুক্তফ্রন্ট বিএনপির কাছে ১৫০ আসন চেয়েছে, যাতে সব আসন জিতলেও বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, যাতে সরকারের রিমোট কন্ট্রোলটা যুক্তফ্রন্টের হাতেই থাকে। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির ঐক্য এখনও হয়নি। কিন্তু বিএনপি যদি যুক্তফ্রন্টকেই ১৫০ আসন দিয়ে দেয়, তাহলে বছরের পর বছর বিপদে তাদের পাশে থাকা ২০ দলীয় জোটের শরিকদের কত আসন দেবে। সবার চাহিদা পূরণ করতে হলে বিএনপির কোনও আসন তো থাকবেই না, উল্টো আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ধার করতে হবে। 

এখন দেখছি, ১৫০ আসনেই সীমাবদ্ধ নয় যুক্তফ্রন্টের স্বপ্নযাত্রা। তাদের দৃষ্টি আরও সুদূরে। যুক্তফ্রন্ট তাদের লক্ষ্য হিসেবে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতা ও রাজনীতিতে ভারসাম্য আনা ইত্যাদি ইত্যাদি যত ভালো ভালো কথা টেক্সট বুকে আছে; তার সবই বলছে। অবশ্য সব দল ও জোটের নির্বাচনি ইশতেহারই আমাদের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না বা করেন না। আমি ধরে নিচ্ছি যুক্তফ্রন্টের নেতারা সৎ, তারা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু ভালো ভালো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে তো তাদের ক্ষমতায় যেতে হবে। সেটা কীভাবে? সেই পথও দেখিয়ে দিয়েছে যুক্তফ্রন্ট। বিএনপিকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় যেতে চায়।  বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের শর্ত হিসেবে যুক্তফ্রন্ট নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে প্রথম দু’বছর তাদের দেশ চালানোর সুযোগ দিতে হবে। পরের তিন বছর দেশ চালাবে বিএনপি। হাতি খাদে পড়লে চামচিকাও দেখি লাথি মারে! তবে বিএনপি এখন সত্যি সত্যি খাদে পড়েছে। তাই যুক্তফ্রন্ট নেতাদের উদ্ভট সব আবদার শুনেও বিএনপি নেতারা শান্তই আছেন। বরং মির্জা ফখরুল ছাড় দেওয়ার কথাই বলছেন। বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানকে বাঁচাতে মরিয়া বিএনপি যুক্তফ্রন্টকে কতটা ছাড় দেবে, সেটাই এখন কৌতূহল।

তবে ইদানীং যুক্তফ্রন্ট নেতাদের বক্তব্য, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে তাদের ক্ষমতায় আসাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচনের পর কী হবে, কারা দেশ চালাবে ইত্যাদি নিয়েই তাদের সকল ব্যস্ততা। শোনা যাচ্ছে, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর রাষ্ট্রপতি হওয়া, ড. কামাল হোসেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ফরমুলাও চূড়ান্ত। যুক্তফ্রন্ট বলেন আর বিএনপি, মূল লক্ষ্য একটাই, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানো। সেটা তারা চাইতেই পারেন। এটাতে দোষের কিছু নেই। বিএনপির না হয় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের তো কেয়ামতের আগে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে তারা কীভাবে ক্ষমতায় যেতে চান? ভালো ভালো কথা বলা আর ভালো ভালো ভোট পাওয়া তো এক কথা নয়। যুক্তফ্রন্টের নেতারা টকশো'তে ভালো, সেমিনারে ভালো, ফেসবুক লাইভে দুর্দান্ত, আদালতে ভালো, পরিকল্পনায় চমৎকার; খালি ভোটের বাক্সটা শূন্য। কেন যে জনগণ তাদের ভালো ভালো কথার দাম দেয় না, আমার তো মাথায় ঢোকে না। তাদের কথা শুনে এত ভালো লাগে।

তবে তাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, অন্য কোথাও। অন্য কারও ইঙ্গিতে তারা নাচেন; বিএনপির ভোটে নিজেরা ক্ষমতায় যেতে চান। যুক্তফ্রন্ট আর গণফোরাম আসলে কোয়ানটিটি নয়, কোয়ালিটির গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। জনগণকে ভুল করতে দেওয়া যাবে না। আমজনতা বি চৌধুরী বা ড. কামাল হোসেনের মূল্য বুঝবে কীভাবে? সারা বিশ্বে যার খ্যাতি, সেই ড. কামাল হোসেন কোনও দিন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেননি। একবারই জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন, ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন তার কাছে অসাংবিধানিক মনে হলেও তখন মনে হয়নি। অবশ্য সংবিধান প্রণয়নকারী হিসেবে ড. কামাল প্রায়শই ‘অসাংবিধানিক’, ‘সংবিধানপরিপন্থী’ বলে ফতোয়া দেন। তার ইদানীংকালের ফতোয়া যতটা না আইনগত, তারচেয়ে বেশি রাজনৈতিক। যেমন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপনকে তিনি অসাংবিধানিক বলছেন। কিন্তু কেন বলছেন? এখন তিনি বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতায় যেতে চাইছেন বলে? ড. কামালের পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু তাই বলে সেটা অসাংবিধানিক হবে কেন?

৫৪’র যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী কফিল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে বি চৌধুরী ছিলেন বিখ্যাত ডাক্তার। জিয়াউর রহমান এসে তাকে রাজনীতিবিদ বানিয়ে দিলেন। কিন্তু সমস্যা হলো যুক্তফ্রন্টের আর সবার মতো তারও নিজের আলো নেই। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বি চৌধুরী বা তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী আর কোনও নির্বাচনে জামানত ঘরে আনতে পারেননি। অথচ মাহি বি চৌধুরীর প্ল্যান ‘এ, বি, সি, ডি’ শুনতে ইউটিউবে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বি চৌধুরী ৫৪’র যুক্তফ্রন্টের স্বপ্নে বিভোর।

‘সুসময়ে সরব, অসময়ে নীরব’ আ স ম আব্দুর রবও কিন্তু আরেক চাঁদ, যার নিজের আলো নেই। ৮৬ ও ৮৮’র সংসদে এমপি হয়েছিলেন এরশাদের আনুকূল্যে, ৯৬ সালে শেখ হাসিনার দয়ায়। কিন্তু ‘বিশাল নেতা’ আ  স ম আব্দুর রব একার চেষ্টায় কোনও দিন জিততে পারবেন না। যুক্তফ্রন্টের মূল সিপাহশালার মাহমুদুর রহমান মান্না অবশ্য আওয়ামী লীগের আনুকূল্য পেয়েও জিততে পারেননি। এবার হয়তো বিএনপির দয়ায় বগুড়ায় আরেকটা চেষ্টা করবেন ডাকসাইটে ছাত্রনেতা মান্না। 

নির্বাচনের আগে ছোট দল বা জোট বড় দলের সঙ্গে মিলে যায়, নানান দরকষাকষি করে। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট সেই লাইনে নেই। তারা উল্টো বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। নির্বাচনে জিতলে দুই বছর তাদের হাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা দেওয়ার আবদার নিয়েও তাদের যুক্তি আছে। মালয়েশিয়ায় যেমন আনোয়ার ইব্রাহিমের জনপ্রিয়তা আর মাহাথিরের ইমেজকে একসাথে করে পরিবর্তন আনা গেছে; যুক্তফ্রন্টও নিজেদের ইমেজ আর বিএনপির জনপ্রিয়তাকে যুক্ত করে আওয়ামী লীগকে হটাতে চায়। কিন্তু আমার প্রশ্ন, যুক্তফ্রন্টে মাহাথিরটা কে?

অনেক দিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের পরে কে? আওয়ামী লীগের পরে বিএনপি মানে তো জ্বলন্ত কড়াই থেকে ফুটন্ত উনুনে ঝাঁপ দেওয়া। আবার সেই ২১ আগস্ট, ১০ ট্রাক অস্ত্র, জঙ্গি উত্থান, যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা, লাগামহীন দুর্নীতি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই শঙ্কার জবাব হয়ে সামনে এসেছে যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের পর বিএনপি নয় যুক্তফ্রন্ট আসবে। যুক্তফ্রন্ট দুই বছরে দেশে আইনের শাসন কায়েম, দুর্নীতি দূর করবে, রাজনীতি ও ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে, কীভাবে দেশ চালাতে হয় তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে; তারপর তিন বছরের জন্য দেশ বিএনপির হাতে তুলে দেবে। কথা শুনে মনে হচ্ছে ড. কামালরা একটা বেসামরিক ১/১১ চাইছেন। তবে তারা দয়ার সাগর। কথা শুনলে মনে হবে যুক্তফ্রন্ট আসলে দৃশ্যপটে এসেছে নিজেরা ক্ষমতায় যেতে বা বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে নয়; আওয়ামী লীগকে উদ্ধার করতে। আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীরা অনেক দিন ধরেই একটা আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই এক লাখ লোক মারবে, প্রথম মাসে ৫ লাখ। এই শঙ্কার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে। এই ভয়েই আওয়ামী লীগের সামনে অভয়বাণী নিয়ে আসে যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের পর যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায় আসবে না, তাই ভয়ের কিছু নেই। যুক্তফ্রন্ট দুই বছরের শাসনে প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে না। দুর্নীতিবাজদের বিচার হবে বটে, তবে ঢালাও শাস্তি হবে না। বাহ, আওয়ামী লীগের জন্য কী চমৎকার সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা। মাহমুদুর রহমান মান্না আসলেই আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষী।

যুক্তফ্রন্টের যা সব স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, বক্তৃতা সব ড্রইংরুমে; নয় হলরুমে। তাদের এই সমস্যার সমাধান অবশ্য দিয়েছেন আ স ম রব। প্রেসক্লাবের হলরুমে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, এই হলরুমে হবে না, রাজপথে নামতে হবে। আশা করি আ স ম রবই সেই রাজপথের নেতৃত্ব দেবেন। সমস্যা হলো ‘বারো ঘাটের জল খাওয়া’ নেতারা যখন ভালো ভালো কথা বলেন, তখন আমরা আমজনতা সেটা বিশ্বাস করতে পারি না। 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘যা আপনি ঘুমিয়ে দেখেন, তা স্বপ্ন নয়; যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না, স্বপ্ন সেটাই’। এখন যুক্তফ্রন্ট নেতারা যদি তাদের খোয়াবের বাস্তবায়ন দেখতে চান; তাহলে এখনই ড্রইংরুম ছেড়ে মাঠে নামুন। নির্বাচনের আর মাস তিনেক বাকি। জনগণের কাছে যান, আপনাদের স্বপ্নের কথা, পরিকল্পনার কথা তাদের বলুন। আর যদি মনে করেন, অলৌকিক কোনও শক্তি আপনাদের ক্ষমতায় বসাবে; তাহলে স্বপ্নের পোলাউয়ে আরেকটু ঘি দিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান; শপথের আগে কেউ না কেউ আপনাদের ডেকে দেবে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

 

 

/ওএমএফ/

x