রাজনীতির শেষ কথা...

শেরিফ আল সায়ার ১৭:১৩ , ডিসেম্বর ০৩ , ২০১৮

শেরিফ আল সায়ারনির্বাচনি ট্রেন দ্রুতগতিতেই এগিয়ে চলছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি তাদের জোটসঙ্গীদের নিয়ে মনোনয়ন দৌড়েও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে, সমস্যা শুরু হয়েছে ২ ডিসেম্বর থেকে। বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবু কোন এলাকায় কাকে দিলে জয়ী হওয়া সম্ভব, তারই হিসাব-নিকাশে এখনও ব্যস্ত সব রাজনৈতিক দল। বিএনপি মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে কিছুটা হলেও বিপাকে আছে। এতে তাদের প্রার্থীদের দুর্বলতারই প্রকাশ পেলো। যাই হোক,  দেশবাসীর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। অথচ কয়েক মাস আগেও সংশয় ছিল নির্বাচন নিয়ে। শত আলোচনার পরও এই বছর একাদশ নির্বাচন যদি সব দলের অংশগ্রহণে সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিক দেশের রাজনীতির ইতিহাসে যুক্ত হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো:
১. ১৯৯১ সালের পর এই প্রথমবার বড় কোনও নির্বাচনি সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন হবে।
২. ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার কোনও দলীয় সরকারের অধীনে সব রাজনৈতিক দল নিয়ে নির্বাচন হবে।

৩. নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে প্রমাণিত হবে, এই দেশে দলীয় সরকারের অধীনে একটি ভালো নির্বাচন সম্ভব।

ইতিবাচক এই তিনটি উদাহরণ সৃষ্টি হলে রাজনীতির সহনশীলতার ক্ষেত্র অনেকটাই অর্জন করবে বাংলাদেশ। এটা নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায়।

তবে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অনেক মেরুকরণ হয়েছে। যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। আমার মনে হয়, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই ঠিকই কিন্তু আদর্শের রাজনীতিতে তো শেষ কথা থাকার কথা ছিল। কিন্তু এবার রাজনীতির কিংবা রাজনৈতিক বিভিন্ন ব্যক্তির যে মেরুকরণ হয়েছে, তা আদর্শের কাছে ধারে-কাছেও যায়নি। তাই এই সময়ে বলা যায়, বর্তমান রাজনীতিতে ক্ষমতার বলয়ে আদর্শ অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক:  

১. ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকীর মতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা ধানের শীষ হাতে নিয়েছেন। যদিও ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করছেন না কিন্তু বিএনপিকে নির্বাচনি বৈতরণী পার করে দিতে সহযোগিতা করেছেন। আর সর্বশেষ তথ্যমতে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নির্বাচন করুক কিংবা না করুক, বাস্তবতা হলো তারা ধানের শীষের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছেন।  কেউ নিজ অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না, এমন দাবিও আমি করছি না। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। যেমন ধরা যাক, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বনিবনা হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আলাদা দল করেছেন। সেটা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কিন্তু সমস্যা হলো তখন, যখন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যোগ দেন। বিএনপির সঙ্গে এখনও জামায়াত আছে। সবাই জানেন, জামায়াতের প্রার্থীরা বিএনপিতে মিলে এবার নির্বাচন করবেন। সব জেনেও তারা না জানার ভান করছেন, না বোঝার ভান করছেন। বারবার বলছেন, তারা জোট করেছেন বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতের সঙ্গে নয়।

অথচ ‘কান টানলে যে মাথা আসে’ সেটা সবাই এড়িয়ে যাচ্ছেন। এখনও মনে করি, ড. কামাল হোসেন আমাদের দেশের সবচেয়ে বিজ্ঞ একজন আইনজীবী। তাকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। আবার রব-মান্না হচ্ছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুই জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কাদের সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যার স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসের গল্প আমরা জানি। যাদের অতীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম আছে। ব্যক্তিগতভাবে তারা বর্তমান সরকারকে সমর্থন না-ই করতে পারেন, এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা কোনও বেআইনি কাজও নয়। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে যখন কেউ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির মতাদর্শের সঙ্গে মিশে যান, তখন আসলে ‘রাজনৈতিক আদর্শে’র চরিত্রটি সংশয়ে পড়ে যায়। একথা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি দলীয়ভাবে জাড়িত ছিল। এতবড় হামলা সরকার বা বিএনপির দলীয় মদদ ছাড়া হবে–এটা আমি বিশ্বাস করি না।   

এমনই প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্টে বিএনপিকে যুক্ত করার আগে প্রথমেই কিছু মৌলিক প্রশ্ন করা উচিত ছিল।

ক. বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে আপনারা মানেন?
খ. বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই দিনটি জাতীয় শোক দিবস। আপনারা ক্ষমতায় এলে শোক দিবস বহাল রাখবেন?
গ. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে আপনাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য কী?
ঘ. যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে কেন জোটসঙ্গী করেছেন? তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে আপনাদের বক্তব্য কী?

যাই হোক, বঙ্গবন্ধু এই দেশের সবার নেতা। বঙ্গবন্ধুকে আমি কখনোই কোনও দলের বা কোনও গোষ্ঠীর মনে করিনি। তিনি এই দুঃখী বাঙালির একমাত্র নেতা।  ড. কামাল হোসেন বহুবার তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আসেন। তাকে নেতা মেনে এই আইনজীবী-রাজনীতিবিদ কেন স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের ফাঁদে পা দিলেন–এটি বুঝতে পারি না। বুঝলাম তিনি আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। আবারও বলছি, সরকারের সমালোচনা করা, সরকারি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা দোষের কিছু নয়। সে জন্য তিনি নিজে তার সংগঠন নিয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন, কর্মসূচি দিতে পারেন। তা না করে তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করবেন? এটাই কি রাজনীতি? রাজনীতিতে শেষ কথা নেই ঠিক, কিন্তু রাজনীতিতে তো আদর্শের কথা থাকার কথা ছিল। সেই আদর্শ কি এ ক্ষেত্রে ড. কামাল, মান্না, রব, কাদের সিদ্দিকীরা ভেবে দেখেননি?    

২. ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় একবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচন না করেও নতুন পদ্ধতির কথা বলতে গিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন–ক্ষমতায় তো আবার আসবে বিএনপি। তারচেয়ে নির্বাচনের দরকার নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের ৬০-৭০টা আসন আমরা দিয়ে দিলেই হয়।

যেন মনে হচ্ছিল তিনি দয়া করছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতি। সেই নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন অনেক বছর হলো। তিনি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু বিবেচ্য বিষয় হলো নাজমুল হুদার রাজনৈতিক আদর্শ তাহলে কী? বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন এই সদস্য হুট করেই কেন মনে করছেন আওয়ামী লীগই তার আসল স্থান? তার মুখে কি তাহলে আদর্শের রাজনীতির কথা মানাবে?

৩. অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ একসময়ের আওয়ামী লীগ নেতা। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭২ সালে গঠিত ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তার পূর্ব একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই হয়তো তিনি গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। গণফোরাম যেন একটা মেলবন্ধন স্টেশন। ড. সাইয়িদ যদি মনোনয়ন পান, তাহলে তিনিও কি ধানের শীষে নির্বাচন করবেন? তিনি তো জানেন, গণফোরাম, বিএনপি-জামায়াত এখন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তাহলে তারও নৈতিক কিংবা আদর্শের অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো?  

৪. আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন গোলাম মাওলা রনি। বিস্ময়ের কথা হলো, যোগ দেওয়ার পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়, বিএনপির অবস্থা কি এতই করুণ যে, দু’দিন আগেও যে ব্যক্তি তাদের নিয়ে সমালোচনা করেছে, তাকেও দলে নিতে হবে? দলে নিয়েছে সেটাও মানলাম। তার হাতে মনোনয়নপত্র দিয়ে বিএনপি কী প্রমাণ করলো? আমি তো মনে করি, বিএনপির বলা উচিত ছিল, ‘এসেছেন ঠিক আছে। দলের জন্য কাজ করুন। দলীয় আনুগত্য প্রমাণ করুন।’

এটা শুধু বিএনপির ক্ষেত্রেই নয়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই যে নাজমুল হুদা আওয়ামী লীগে আসতে চাইলেন, তাকে যদিও আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে তাকে দলের জন্য কাজ করতে হবে। ত্যাগ স্বীকারসহ দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থক ও জনস্বার্থে কাজ করে প্রমাণ করতে হবে তিনি শুধু দলীয় আনুগত্যই নয়, দলের আদর্শিক জায়গাটাও অন্তরে ধারণ করতে পেরেছেন। কারণ, আমি মনে করি বাংলাদেশের দুটি বৃহৎ দলেই অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী আছেন। যারা দীর্ঘ সময় দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, ত্যাগ স্বীকার করছেন, জেল-জুলুম অত্যাচার—সবকিছু সইছেন। কিন্তু হুট করে কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসে যখন মনোনয়ন নিয়ে যাবে, তখন আসলে তৃণমূলের জন্য সেটা মেনে নেওয়া মুশকিল।

৫. বিকল্পধারা উদ্যোগ নিয়েছিল, এই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার। যার ফলেই যুক্তফ্রন্ট নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। সেই বিকল্পধারা দাবি জানালো বিএনপিকে জামায়াত ত্যাগ করতে হবে।

বিকল্পধারার প্রধান বি. চৌধুরী ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রথমে সংসদ সদস্য, তারপর তাদেরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তার সায় ছাড়া দলীয়ভাবে ওই সময় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ সরকার করেনি। আরও পেছনে গেলে জিয়াউর রহমানই প্রথম স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে ১৯৭৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। শাহ আজিজুর রহমান ১৯৭১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে পাকিস্তানের সামরিকজান্তার পাঠানো প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন। ওই সময় তো বি. চৌধুরী জিয়ার কাছাকাছিই ছিলেন। তখন কি তিনি কোনও প্রতিবাদ করেছিলেন? ১৯৭৯ সালে কিংবা ২০০১ সালে বি. চৌধুরী কেন বলেননি জামায়াত থাকলে তিনি বিএনপিতে থাকবেন না? যদি বলতেন তার নামটি তো ইতিহাসের পাতায় বড় করে লেখা থাকতো।

যাহোক, আমি মনে করি না কেউ নিজের ভুল বুঝে সঠিক পথে আসতে পারবে না। তিনি দেরিতে হলেও সঠিক পথে এসেছেন। তবে এজন্য পূর্ব ভুলের জন্য ক্ষমাও চাইতে পারেন। কারণ, এসব ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ পেয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। এর দায় তো তিনি এড়াতে পারেন না।

এবার আসি বিকল্পধারা ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে। মাহী বি. চৌধুরীর একটি বক্তৃতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে চলে, টেন্ডার, ইজারা নানান বক্তব্য ছিল সেখানে। তরুণ প্রজন্মের অনেককেই সেই বক্তব্য ভালোভাবে নিতে দেখেছি। কিন্তু অবশেষে ‘প্ল্যান বি’ বাদ হয়ে যাওয়ায় তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করলেন।

এখানেও রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কিন্তু একটি ন্যূনতম নৈতিক অবস্থান তো থাকার কথা ছিল। হঠাৎ করে সরকারবিরোধী থেকে সরকারের দলের সঙ্গে সখ্যের নৈতিক অবস্থানকে কি দুর্বল করেনি?  

৬. এই বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য প্রকাশ্যে আসা। ২০১৩ সালে হেফাজতের সহিংস রূপ সবাই দেখেছে। আওয়ামী লীগও তখন শক্তহাতে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। আর বিএনপির নেতাদের ২০১৩ সালের ৫ মে দেখা গেছে তাদের পানি-শরবত খাওয়াতে। তখন বিএনপি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। বিস্ময়করভাবে ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের সঙ্গে ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের অবস্থানগত পরিবর্তন অনেকের নজরে বাঁকা ঠেকেছে। যদিও অনেকে মনে করছেন এটা আওয়ামী লীগের সঠিক রাজনীতি। আবার অনেকেই মনোক্ষুণ্ন হয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মতো দল এটা কীভাবে করলো।  

হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ভালো নাকি মন্দ, তা বিবেচনা করার সময় এখনও আসেনি বলে আমার মনে হয়। মূল বিষয় হলো, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এবং অনেকেই বলতে চাইছেন, কওমি মাদ্রাসায় যারা পড়েন তারা বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বাইরের কেউ নয়। সুতরাং তাদের মূল জনস্রোতে নিয়ে আসা সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অবশ্যই তাদের মূলস্রোতে মেশার সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ আমরা পাবো। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নামেন কিংবা হুঙ্কারও দেন। যেমন একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, সেটা হলো–স্কুলের পাঠ্যবই নিয়ে তাদের কিছু দাবি ছিল। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন হওয়ার ঘটনাও তো আমরা দেখেছি। সংশয়টা এখানেই।

এমন অনেক আলোচিত উদাহরণ দেওয়া সম্ভব বর্তমান সময়ের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। এসব উদাহরণ একটা বিষয়ই প্রমাণ করে। তা হলো আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার রাজনীতিই এখানে মূল কিংবা প্রধান। তাই রাজনীতির শেষ কথা নেই–এই বাক্য সবসময়ই আমরা বলি। অথচ আমাদের মতো সাধারণ জনগণ দেখতে চায় আদর্শের রাজনীতি। যেখানে শেষ কথা থাকবে। ‘আদর্শ তো আদশ’ই, তার একটা শক্ত নৈতিক ভিত্তি থাকবে। সেই ভিত্তিতেই লক্ষ-কোটি জনতা স্বপ্ন দেখবেন। তাই আমার মতো সাধারণ মানুষের অনুরোধ থাকবে–রাজনীতিবিদরা যেন আদর্শের রাজনীতির শেষ কথাটি টানেন। রাজনীতির নানান কথা থাকবে, কিন্তু আদর্শের জায়গায় যেন শেষ কথা থাকে।

লেখক: হেড অব রিসার্চ, বাংলা ট্রিবিউন

/এসএএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

x