আমাদের সাম্প্রতিক সংস্কৃতি

শায়রুল কবির খান ১৯:২৯ , আগস্ট ১৯ , ২০১৯

শায়রুল কবির খাননিজে কীভাবে ভালো থাকবো–এই ধারণাই এখন সবার ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রাণধারণের গ্লানিই প্রতিটি মানুষ দিনের পর দিন বয়ে বেড়াচ্ছে। জীবন এত নিষ্ঠুর এত স্বার্থপর হয়ে পড়েছে যে, কোনও অসঙ্গতিই তাদের তাড়িত করে না। কোনও ধরনের আবেগের তাড়নায় শিরা-উপশিরায় শিহরণের জন্ম দেয় না। যেদিকে তাকাবেন, দেখবেন শুধু লোভ-লালসা। শিক্ষকের কাছে শিশু-ছাত্রীও নিরাপদ নয়। কোনও কোনও ধর্মীয় উপসানলয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ নারীও লালসার শিকার। কোথাও কোথাও হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে রোগীও ধর্ষিত হয়েছে। কোনও মা তার শিশু মেয়ে সন্তানকে আত্মীয়-স্বজনের কাছে রেখে যেতে সাহস করে না। এতটাই সমাজের নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। খুন-খারাবি অর্থনৈতিক লুটপাট, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা–এ যেন মাত্রা অতিরিক্ত বেড়েই চলছে। মনে হচ্ছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।
এটা কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে শুধুই বিনষ্ট আর বিনষ্ট হতে থাকবে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার পরিবর্তন কবে হবে, কী করে হবে ও কাদের উদ্যোগে হবে এই বিষয়ে পণ্ডিতদের জিজ্ঞাসা করে সমাধান বের করার দায়িত্ব রাজনীতিকদের।
সরকারে যে রাজনৈতিক দলটি আছে, সেই দলের এবং তার বিপরীতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতারা পর্যন্ত সবাই সবার বিরুদ্ধে না হলেও বিরোধিতা আছে। কারও কাছে কোনও স্থির লক্ষ নেই। কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে কোনও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুদূরপ্রসারী পর্যায়ক্রমিক কর্মসূচি নেই। দেশে নানা রকম সমস্যা পীড়িত, জনসংখ্যার ভারে পিষ্ট হয়ে পড়েছে। দেশটি উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে বটে। তবে, দেশটাকে সত্যিকারভাবে জনগণের কল্যাণকামী রাজনীতির জন্য যে পরিমাণ প্রজ্ঞা-দৃঢ়তা এবং মানবসম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, তার চর্চা শাসকদলে প্রায় অনুপস্থিত।

দেশের মানুষকে শাসক দলের সব বোকামি, হটকারী, দুর্নীতি, লোভ-লালসার দায়ভার পোহাতে হচ্ছে। কতদিন এই অবস্থা বিরাজ করবে, তা কেউ বলতে পারে না। অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর কল-কারখানা জাতীয়করণ করে সেগুলোর তহবিল লুট করে যন্ত্রাংশ বেচে দিয়ে একেবারে অচল করে দিয়েছিল। অযোগ্য লোকদের প্রশাসনে নানান গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একদিকে স্বজনতোষণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে কল-কারখানায় নৈরাজ্যও দেখা দিয়েছে। দেশের সম্পদ বাইরে পাচার চোরাচালান, বিদেশি ব্যাংকে টাকা রাখা, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রীয় আইনকে হাতে নিয়ে সবকিছুতে আঘাত করা হচ্ছে। এখন সমাজতন্ত্রের স্লোগান নেই, পুঁজিবাদতন্ত্রের প্রসার হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পুঁজিবাদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। 

আমি মনে করি, বর্তমানে এর বিপরীতে জনগণের আস্থাভাজন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনই বলিষ্ট কোনও পদক্ষেপ রাখতে পারে। সমাজের যে ধারাগুলো ছিঁড়ে গেছে, সেগুলোকে বৃথা জোড়া লাগানোর চেষ্টা না করে জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন ধারা সৃষ্টি করা হতে পারে এবং সময় উপযোগী মানবচেতনা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেরকম 'হ্যাঁ' বাচক কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা। একে অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা না রটিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারলে অদূরদর্শিতা, হটকারিতা, বৈদেশিক শক্তির লেজুড়বৃত্তি ও অকারণে দেশ-বিদেশের প্রতি বিদ্বেষ পরিহার করা যাবে।  

বর্তমান সময়টা যে একটা যুগসন্ধিকাল, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। যে ঐতিহাসিক নিয়মের ক্রমবিবর্তনের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বর্তমান সমাজ। বর্তমান সমাজও কতিপয় সামাজিক নিয়মের শাসনের আওতাধীন সবকিছুকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে শুধু বেপরোয়া ইচ্ছাশক্তির বলে টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এর সমাজিক প্রতিক্রিয়া এখন ভয়াবহ।

কান পেতে কি শুনতে পান?

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংসদ

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

x