Vision  ad on bangla Tribune

প্রতিশোধ নিতেই স্কুলছাত্র মাসুককে হত্যা করে খেলার সঙ্গী নাঈম!

বগুড়া প্রতিনিধি ০৩:৫৭ , মে ১৯ , ২০১৭

মাসুক ফেরদৌসবগুড়ায় এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মাসুক ফেরদৌস (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিদারুল ইসলাম নাঈম (১৫) নামে এক কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুরনো বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে মাসুককে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দি দিয়েছে নাঈম।  

বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুজ্জামানের আদালতে বৃহস্পতিবার বিকালে নাঈম ওই জবানবন্দি দেয়।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘বুধবার বিকালে শাজাহানপুর থানার কাছে একটি হোটেল থেকে মাসুক হত্যার আসামি মাটিডালি হাজিপাড়ার বেলাল হোসেন সরকারের ছেলে নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে সব ঘটনা প্রকাশ করে।

নাঈম পুলিশকে জানায়, এক বছর আগে মাসুক তার পায়ে আঘাত করেছিল। এ ঘটনায় মাসুকের বাবা এমদাদের কাছে সে নালিশ করে। কিন্তু মাসুকের বাবা এর বিচার না করায় সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে। টেলিভিশনে ক্রাইম পেট্রল ও বিভিন্ন সিরিজ দেখে তার মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার স্পৃহা জাগে।

সে আরও জানায়, গত ১১ মে এক পরিচিত টোকাইয়ের কাছ থেকে ঘুমের ওষুধ নেয় সে। ১৩ মে বিকালে সে মাটিডালি বাজার থেকে ২৬ টাকায় আধা লিটার দুধ ও ১০ টাকা দিয়ে নেসলে কফি কেনে। ফেরার পথে মাসুককে তাদের বাড়ির সামনে ফোনে ভিডিও গেম খেলতে দেখে। তখন সে মাসুককে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। প্রায় দু’ঘণ্টা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করাসহ বিভিন্ন গল্প করে। এরপর সে মাসুককে রেসলিং খেলার প্রস্তাব দেয়। শর্ত ছিল নাঈম লাঠি ও মাসুক খালি হাতে অংশ নেবে। নাঈম এ সময় মাসুককে একটি গ্লাসে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কফি খেতে দেয়। কফি খাবার পর মাসুক বলে, ‘কী খাওয়ালি মাথা ঘুরছে’। তখন নাঈম পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে রেসলিং খেলতে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। খেলার রেফারি হিসেবে নিউ ডায়মন্ড জুয়েলার্সের মালিককের ছেলে মিঠুকে রাখার কথা বললে নাঈম তা নাচক করে। এরপর তারা দু’জন রেসলিং শুরু করে।

জবানবন্দিতে নাঈম জানিয়েছে, নিস্তেজ হয়ে যাওয়া মাসুক প্রথমে নাঈমকে ধরে মারার চেষ্টা করে। তখন নাঈম বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় কয়েকটি আঘাত করে। মাসুক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সে বাড়িতে লুকিয়ে থাকে। রাত ২টার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে শহরতলির বারপুরে যায়। সেখানে মুরগি বোঝাই একটি গাড়ির ছাদে ওঠে। এ সময় অন্য একটি বাসের লোকজন নাঈমকে দেখতে পেয়ে মুরগি বোঝাই গাড়ির চালককে জানিয়ে দেয়। তখন চালক নাঈমের শরীর তল্লাশি করে একটি ছুরি ও ১৪ টাকা পায়। কিন্তু নাঈমের অনুরোধ শুনে তাকে শাজাহানপুর থানার কাছে একটি হোটেলে নামিয়ে দেয় চালক। সেখানে সে গত কয়েকদিন ছিল।

সনাতন চক্রবর্তী জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদ পেয়ে ওই হোটেলের কাছ থেকে নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে মাসুককে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে। তাকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দুধের দোকান, কফির দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে যে গ্লাসে মাসুককে কফি খাওয়া হয়েছিল সেটি এবং কফির খালি প্যাকেট ও বাঁশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে তাদের বাড়ি থেকে মাসুকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল।

সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান, নাঈম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হয়। বিকালে সে স্বীকারোক্তি দেয়। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে নাঈমকে যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মামলার বাদী মাসুকের বাবা জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ দাবি করেছেন, প্রধান আসামি মাহবুব হামিদ তারা নিজেকে বাঁচাতে নাঈমকে ধরিয়ে দিয়েছেন। পুলিশও মাহবুব হামিদকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। নাঈম এমন স্বীকারোক্তি দিলে তা অবশ্যই পুলিশের শেখানো। পুলিশ আসল ঘাতককে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এমন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি অবশ্যই প্রত্যখ্যান করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নাঈমকে পুলিশ ২-৩ দিন আগে গ্রেফতার করলেও এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, নাঈমকে গ্রেফতারের কথা কাউকে বলা হয়নি। তার বক্তব্য নিশ্চিত করতে তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কারণে হয়তো কেউ টের পেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে রাতে এ হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর নিহত মাসুকের বাবা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক এমদাদ সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় মাহবুব হামিদ তারা, তার ভাই পৌর কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ মেজবাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, মাহবুব হামিদ তারা জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের বাবা। হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই হত্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয় বলে দাবি করেন মাহবুব হামিদ তারা।

/বিএল/এফএস/ 

আরও পড়ুন-
দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলা: তদন্তে ফাঁক রাখতে চায় না পুলিশ

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x