‘স্ত্রীর স্বীকৃতি ও নির্যাতনের বিচার চাই’

নরসিংদী প্রতিনিধি ২৩:৪৮ , জুন ০৫ , ২০১৭

 

 

 

নরসিংদী

স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক কলেজছাত্রী । তার অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে তাকে। এছাড়াও তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার (৫ জুন) সকালে বেলাব উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের ধুকুন্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ ঘটনাটি জানলেও এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

নির্যাতিতা তরুণী নিজেকে ধুকুন্দি গ্রামের মৃত রহম আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের (৪০) স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তিনি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা।

ওই তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিন বছর আগে ধুকুন্দি গ্রামের মৃত রহম আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের (৪০) সঙ্গে তার পরিচয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দেড় বছর আগে জাকির হোসেন পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে জাকির হোসেন তাকে নিয়ে ঢাকা ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। এক পর্যায়ে জাকির সৌদি আরব চলে যান। তারপর তিনি (তরুণী) জানতে পারেন, স্বামী জাকির হোসেন আগেও তিনটি বিয়ে করেছেন এবং বিয়ের কথা তার কাছে গোপন করেছেন।

ওই তরুণীর অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি স্ত্রী হিসেবে তাকে বাড়িতে তোলার জন্য জাকির হোসেনকে ফোনে চাপ দেন। তারপর জাকির হোসেনের কথামতো তিনি ৩১ মে (বুধবার) প্রথমবারের মতো ধুকুন্দি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে যান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে জাকিরের মা, বোন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও ভাগ্নি তাকে মারধর করে। পরে রাতে পাশের গ্রাম আব্দুল্লাহনগরে জাকিরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে পরদিন আবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় দফায় সোমবার (৫ জুন) সকালে স্ত্রীর অধিকার নিয়ে তিনি আবারও ধুকুন্দি গ্রামে জাকিরের বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজন তাকে কিল ঘুষি মেরে আহত করে। শুধু তাই নয়, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং দা দিয়ে মাথার চুল কেটে নির্যাতন করা হয়। এসময় চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। তখন এ ঘটনার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলও করে।
জানা গেছে, খবর পেয়ে বেলাব থানার উপ পরিদর্শক মাহবুব আলম ঘটনাস্থল থেকে আহতাবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ধুকুন্দি গ্রামের বাসিন্দা ও আমলাব ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘মেয়েটির চিৎকার শুনে আমরা জাকিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। মানুষ মানুষকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে না। আমরা ধুকুন্দি গ্রামবাসী এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’

আমলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির আহমেদ পরশ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। খুবই লজ্জাজনক। তারা কাজটি ভালো করেনি। আমি সামাজিকভাবে ব্যাপারটি দেখছি।’

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খাঁন বলেন, ‘ঘটনা শুনে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত দুই নির্যাতনকারীকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

/এনআই/ টিএন/

x