দেশ-বিদেশের নদীর পানি নিয়ে জাদুঘর

রাজিব বসু, পটুয়াখালী ১০:১৭ , জুন ০৯ , ২০১৭

পানি জাদুঘরদেশের বিভিন্ন নদীর সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কুয়াকাটা সংলগ্ন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা এলাকায় মহাসড়কের পাশেই এই পানি জাদুঘরের অবস্থান। কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের ৫৭টি নদীর পানিসহ বিভিন্ন দেশের নদীর পানি এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পানি সংক্রান্ত প্রায় সব তথ্যই এখান থেকে মানুষ জানতে পারবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আভাস এই জাদুঘরটি গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও অ্যাকশন এইডের সাধারণ পরিষদ সদস্য রাহিমা সুলতানা কাজল জানান, পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি এখানে রাখা হয়েছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দুর্লভ কিছু উপকরণ।দেশ-বিদেশের নদীর পানি নিয়ে পানি জাদুঘর

তিনি জানান, ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর যাত্রা এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘরটির। নদী ও নদীকেন্দ্রীক মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জে স্বল্প পরিসরে স্থাপন করেন জাদুঘরটি। তিস্তা, করতোয়া, সুরমা, কুশিয়ারা, কর্নফুলী, নাফ, দুধ কুমার,সাঙ্গু,গঙ্গা-পদ্মাসহ মোট ৫৭টি নদীর পানি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে এখানে। এর মাধ্যমে নদী ও পানির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের। এছাড়াও নেপাল ও মিয়ানমারের বিভিন্ন নদীর পানি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে নদী গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের বইও।দেশ-বিদেশের নদীর পানি নিয়ে পানি জাদুঘর

দর্শনার্থী কল্লোল হালদার জানান, ‘দেশ-বিদেশের সব নদ-নদী ঘুরে দেখা সম্ভব না। তাই পাখিমারায় স্থাপিত পানি জাদুঘরে এসেছি। কোন জেলায় কী কী নদী রয়েছে তা এখানে এসে জানা যায়। এটা ভিন্ন এক ধরনের অভিজ্ঞতা।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা সুমন দাস বলেন, ‘এ জাদুঘরে এসে কোন নদীর পানি কী রকম তা দেখার সুযোগ মিলেছে। তবে পানি জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আরও কিছু নদীর পানি সংগ্রহ করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে।’পানি জাদুঘর

দর্শনার্থী সোলায়মান মৃধা জানান, ‘পানি জাদুঘরটি স্থাপন করে একটি ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’পানি জাদুঘর

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আভাসের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদী কেন্দ্রিক জীবন-জীবিকার ওপর কাজ করতে গিয়ে কমিটির পক্ষ থেকে একটি পানি জাদুঘরের প্রস্তাব আসে। নদী সম্পদকে উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মূলত এই পানি জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন নদীর পানি ছাড়াও নেপাল ও মিয়ানমারের বিভিন্ন নদীর পানি রাখা হয়েছে। দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য রাখা হয়েছে নদী গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের বই। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পানি জাদুঘরটি আরো সমৃদ্ধশালী হবে। পাশাপাশি কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।’

/এনআই/এফএস/ 

আরও পড়ুন-
বাসের আগেই শেষ ঈদযাত্রায় উড়োজাহাজের টিকিট

x