রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকট

জিয়াউল হক, রাঙামাটি ২০:৩৪ , জুন ১৭ , ২০১৭

পাহাড় ধসে রাঙামাটির আশ্রয় কেন্দ্রে অংশ নেওয়া পরিবারেরর সদস্যরা (ছবি- রাঙামাটি প্রতিনিধি)রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে অবস্থানরত পরিবারগুলো। তবে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকট। বিশেষ করে শিশুখাদ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা পরিবারগুলো। এই সংকটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা প্রশাসকও। তবে রবিবার (১৮ জুন) থেকে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

জেলার যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানতি চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাড়িতে করে খাবার পানি দিয়ে যায়। তবে যেটুকু পানি দেয়, তা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট না। তাছাড়া আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া এখন বন্ধ আছে। কিন্তু পাহাড় ধসের ভীতি এখনও আমাদের মন থেকে কাটেনি। তাই এখনই আমরা কেউ পুরনো বাড়িতে ফিরে যেতে চাই না।’

এই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মনোঘর আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরি চাকমা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে তার ভালো লাগে না। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়েও ঘরেও ফিরে যেতে চায় না সে। জেরি বলেন, ‘আগামী মাসে পরীক্ষা। কিন্তু আমার কোনও বই-খাতা নেই। কিভাবে পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।’

জেরির বাবা পুলনিত চাকমা বলেন, ‘আমাদের খাবার ব্যবস্থা করা হলেও শিশুদের খাবারের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়েছি। টাকা-পয়সা কিছুই নেই সঙ্গে। সরকার থেকে শিশুদের খাবাবের ব্যবস্থা করলে ‍খুব ভালো হয়।’ কেবল শিশুখাদ্য নয়, আশ্রয় নেওয়া মানুষের চাহিদার তুলনায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও অনেক কম বলে জানান পুলনিত চাকমা।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতরাও বলছেন বিশুদ্ধ পানি ও শিশুখাদ্যের সংকটের কথা। এখানে আশ্রয় নেওয়া মরিয়ম বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ছোট্ট ঘরে কোনোমতে আছি। এক ঘরে নারী-পুরুষ-বাচ্চারা একসঙ্গে আছি। খাবার পনি যা দিয়ে যায়, তা দিয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ হয় না। শিশুদের জন্যও আলাদা খাবারের ব্যবস্থা নেই। আমরা যা খাচ্ছি, সেটাই বাচ্চাদেরও খাওয়াতে হচ্ছে।’

পাহাড় ধসে রাঙামাটির আশ্রয় কেন্দ্রে অংশ নেওয়া পরিবারেরর সদস্যরা (ছবি- রাঙামাটি প্রতিনিধি)

বিএফডিসি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া মো. সোলাইমান বলেন, ‘আমার নাতির জন্য কোনও খাবার ব্যবস্থা করা হয়নি। কিছু চিড়া আনা হয়েছে, ওকে সেটাই খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু চিড়া খেতে চায় না আমার নাতি। এ বিষয়টিতে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।’

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শিশুখাদ্যের সংকটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নানও। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেছি। কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামীকাল (রবিবার, ১৮ জুন) থেকে শিশুখাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির কোনও সমস্যা আর হবে না।’

এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানলাম। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আজই বলব। আশা করি, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আর কোনও সমস্যা থাকবে না।’ যতদিন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন না হয়, ততদিন পর্যন্ত সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন-

বস্তা থেকে উদ্ধার হলেন ইউপি সদস্য!

নীলফামারী-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনে ছাপানো টিকিট না থাকায় যাত্রীরা বিড়ম্বনায়

আবারও বৃষ্টি: বান্দরবানের পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

/এসএমএ/টিআর/

x