Vision  ad on bangla Tribune

রাঙামাটির বাজারে প্রশাসনের নজরদারিতে ক্রেতাদের স্বস্তি

জিয়াউল হক, রাঙামাটি ০০:০১ , জুন ১৯ , ২০১৭





রাঙামাটির একটি বাজার। ছবি- প্রতিনিধি

পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটিতে শাক-সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম চলে গিয়েছিল ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে তা কিছুটা কমেছে। তাই স্বস্তি ফিরেছেন ক্রেতাদের মধ্যে। পণ্যের দাম আগের তুলনায় সহনীয় বলে জানিয়েছেন তারা।

শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর রাঙামাটির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার কারণে খাদ্যদ্রব্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের সংকট তৈরি হয়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ ছিল, অতি মুনাফার লোভেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রশাসনের নজরদারির ফলে নিত্যপণ্যের দাম নেমে এসেছে ক্রেতাদের নাগালে। বনরূপা বাজারে রবিবার (১৮ জুন) বিকালে বাজার করতে আসা ক্রেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানালেন।

বনরূপা বাজারে ক্রেতা জ্ঞানরঞ্জন চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, এটি কৃত্রিম সংকট। কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই সংকট তৈরি করেছে। তাদের প্রত্যেকের আলাদা গোডাউন আছে, যেখানে তারা পণ্য মজুদ করে। মূল্য বৃদ্ধি পেলে অল্প পরিমাণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করা হয়। এই সিন্ডিকেটই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।’

একই বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন রাঙামাটি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কোনও কোনও ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করেছেন। রাঙামাটির মজুদ পণ্যে আরও এক সপ্তাহ চলার কথা। কিন্তু আমরা দেখলাম, পাহাড় ধসের দিন থেকেই বাজারে সংকট দেখা দিলো। পরে ক্রেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে এখন বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

ব্যবসায়ীরা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। তারা বলছেন, রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বনরূপা সমতা ঘাটের চাল ব্যবসায়ী মজুমদার স্টোরের মালিক জয়দেব পণ্য মজুদের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যে পরিমাণ চাল আছে, তাতে আরও অনেকদিন যাবে। তবে এই চাল শেষ হয়ে গেলে কিছুই করার থাকবে না। কাপ্তাই থেকে বোটে চাল এনে বিক্রি করা সম্ভব না। এতে খরচ অনেক বেশি। তাই ওই পথে চাল আনা সম্ভব হবে না।’ফাইল ছবি

আলু বিক্রেতা মো. ইসমাইল বলেন, ‘১৫ জুন আমার কাছে যা মজুদ ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। ১৭ জুন নতুন দ্রব্যাদি দোকানে এসেছে। যা আছে তাতে আরও চার-পাঁচ দিন চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও পণ্য মজুদ করিনি। আর বেশি দামেও কোনও পণ্য বিক্রি করিনি। কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেছে। তবে তারা সংখ্যায় কম। রাস্তাঘাটের কারণে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। তাই এখন বাজারে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেশি।’

চলমান দুর্যোগের সময় সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান। বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তার কথা, ‘পাহাড় ধসের পর প্রথম দিন হয়তো কেউ কেউ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করেছিল। তবে বর্তমানে রাঙামাটিতে খাদ্যের মজুদ পর্যাপ্ত আছে।’ ৩০ হাজার লিটার অকটেন আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অকটেনে আগামী একমাস ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক শনিবার (১৭ জুন) পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন চিফ মো. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় তিনি জানান, তিন দিনের মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ছোট যানবাহন চলাচল এবং আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার সব রাস্তা সব ধরনের যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।

/এনআই/টিআর/জেএইচ/

আরও পড়ুন

রাঙামাটিতে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি চাওয়ায় অর্থদণ্ড

রাঙামাটিতে তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x