বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশ অবশেষে ৯০ বছরের অনিল পেলেন বয়স্ক ভাতার কার্ড

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ ০১:১৬ , জুলাই ১৮ , ২০১৭

এক সময় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড় বড় গাছের ডাল ও গাছের গুড়ি কেটে খড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনিল কুমার দাস। সেই অনিল কুমারের বয়স এখন ৯০ বছর। বয়সের ভারে কাহিল অনিল ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। বিয়ের পর দুই মেয়ে চলে গেছেন ভারতে। এখন দেখার মতো কেউ নেই তার। স্ত্রীকে নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১নং সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছোটভাটপাড়া গ্রামের ছোট্ট একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করেন তিনি।অনিল কুমারের হাতে বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেওয়া হয় সোমবার

 

চলতি পথে গত ১৯ জানুযারি বয়স্ক এই ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘আমার একটা বয়স্ক কার্ড করে দাও না বাবা, আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাব? সবাই শুধু কথা দেয় কিন্তু কেউ কথা রাখে না।’ কিন্তু এবার কথা রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

গত ১৯  জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এই বিষয়টি নিয়ে ‘কবে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবেন ৯০ বছরের অনিল’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু ওই বয়স্ক ব্যক্তি অনিল কুমার দাসকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। চেয়ারম্যান সেই কথা রেখেছেন।

সোমবার সকালে অনিল কুমার দাসকে উপজেলা পরিষদে ডেকে এনে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেন চেয়ারম্যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) যাদব সরকার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আইনাল হক এবং ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের প্রমুখ।

ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু জানান, খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর আমার দৃষ্টিগোচর হয়। ওই সময় আামি ইউএনও স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলাম অনিল কুমার দাসকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান আরও জানান, দুই বছর পর পর প্রতিটি ইউনিয়নে ১৬-১৮টি বয়স্ক ভাতার কার্ড আসে। কিন্তু বয়স্ক লোক থাকেন অনেক বেশি। ফলে সবাইকে কার্ড দেওয়া যায় না, অনেক সময় কথা দিয়ে কথা রাখা সম্ভব হয় না। তবে অনিলের বিষয়ে আমি কথা রেখেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান জানান, বাংলা ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমি খবরটি পড়ি। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়। বলেছিলাম পরে বয়স্ক ভাতার কার্ড বরাদ্দ হলে তাকে যেন একটি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশংসা করে ছাদেকুর রহমান বলেন, আপনাদের সৃজনশীল সাংবাদিকতার জন্য একজন বয়স্ক ব্যক্তি কার্ড পেলেন।

/এএ/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x