খুলনায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তরুণ গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি ০৩:২৯ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

ধর্ষণ

খুলনার দৌলতপুরে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে দু’বছর ধরে ধর্ষণ, একইসঙ্গে  তার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ নারী নির্যাতন মামলাটি নথিভুক্ত  এবং অভিযুক্ত  রানা হাওলাদারকে (২৪) গ্রেফতার করে  কারাগারে পাঠিয়েছে।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মধ্যডাঙ্গার একটি সালিস বৈঠক থেকে রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করে দৌলতপুর থানার পুলিশ । অভিযুক্ত রানা দৌলতপুর মধ্যডাঙ্গা এলাকার আদম আলী হাওলাদারের ছেলে। সে পেশায় একটি মোবাইল ফোনের দোকানের কর্মচারী। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মেয়েটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করার পর রানাকে গ্রেফতার করা হয়। আর মেয়েটির নিজের দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অভিযোগটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মধ্যডাঙ্গা গ্রামের ওই কলেজছাত্রী (১৭)মোবাইল ফোনে গান ও গেমস আপলোড করতে গিয়ে তিন বছর আগে রানার সঙ্গে পরিচিত হয়। এক পর্যায়ে রানার সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর রানা গত দুবছর ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং কৌশলে মেয়েটির বিবস্ত্র  ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রানাকে বিয়ের কথা বললে সে ওইসব ছবি দেখিয়ে মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিয়ে না করার টালবাহানা শুরু করে। এতে মেয়েটি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি জানতে পারে।

মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য রানাকে বলা হয়। কিন্তু রানা মেয়েটির বিবস্ত্র ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে  মেয়েটির নামে সে একটি ভুয়া আইডি খুলে অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসী এ নিয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করে। কিন্তু বৈঠকে রানা জানিয়ে দেয় সে মেয়েটিকে বিয়ে করবে না।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়িতে এ বিষয়ে সালিস বৈঠক হয়।ওই সালিস বৈঠকে রানার পারিবার বহিরাগতদের দিয়ে হামলা চালায়।  এ খবর পেয়ে রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 আরও পড়ুন:

যৌন হয়রানি ও পাচারের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা শিশুরা

 

 

/এপিএইচ/

x