ভুল অপারেশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি ০৪:১৯ , জানুয়ারি ১৪ , ২০১৮

নুসরাত জাহান সাবাবগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও এবং নাক, কান, গলা বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদুল হক মামুনের ভুল অপারেশনে সাড়ে চার বছরের শিশু নুসরাত জাহান সাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের পাশে পদ্মা ক্লিনিকে এ অপারেশন করেন ডা. মামুন। এরপর শিশুটির আর জ্ঞান ফেরেনি। ওই চিকিৎসক তখন শিশুটিকে দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ক্লিনিকে শুধু এক আয়াকে রেখে চিকিৎসকসহ সবাই সটকে পড়েন।

এদিকে,শজিমেক হাসপাতালে আনা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।শিশু নুসরাত জাহান সাবার স্বজনরা রাতেই সদর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ ময়নাতদন্তের কথা বলে। ফলে স্বজনরা অভিযোগ না করেই ফিরে আসেন।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা ওই চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে ডা. মাহমুদুল হক মামুন জানান, তার অপারেশনে কোনও ভুল হয়নি। জ্ঞান না ফেরায় শিশুটি ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’ মারা গেছে।

শিশু নুসরাত জাহান সাবার বাবা শাহাদত হোসেন বগুড়া সদরের মেঘাগাছা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক শাহাদত জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রী রুমি আকতার। সাড়ে চার বছর আগে নুসরাত জাহান সাবার জন্ম হয়। এরপর তাদের আর কোনও সন্তান হয়নি।

শাহাদত হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন ধরে সাবা গলায় ব্যথা অনুভব করছিল। সম্প্রতি তাকে ডক্টরস ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রিপোর্ট দেন। ওই রিপোর্ট নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে যান। সেখানে ডা. মামুন জানান, সাবার টনসিল বেড়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ওই চিকিৎসক হাসপাতালের পরিবর্তে পাশেই পদ্মা ক্লিনিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় অপারেশন করতে চান। তিনি অপারেশনের জন্য সাত হাজার টাকা দাবি করেন। ’

শিশুটির বাবা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সাবাকে নিয়ে তিনি ওই ক্লিনিকে  যান। ১০০ টাকা ভর্তি ফি নেওয়ার পর রাত পৌনে আটটার দিকে ডা. মামুন অপারেশন শুরু করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি  অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে জানান, সাবার অবস্থা ভালো নয়। এরপর তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের আইসিইউতে রেফার্ড করা হয়। এ সময় ক্লিনিকের লোকজনই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করাসহ সবকিছু করেন। শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহাদত হোসেন আরও জানান, রাতেই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা তার মেয়ের লাশের  ময়নাতদন্ত করার কথা বলেন।  প্রাণের ধন আরও কষ্ট পাবে, এই ভেবে তিনি অভিযোগ না করেই লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রামের কবরস্থানে সাবার লাশ দাফন করা হয়।

তিনি ওই চিকিৎসকের সনদপত্র বাতিল এবং তিনি যেন আর কারও মায়ের বুক খালি না করতে পারেন, সে ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন শাহাদত হোসেন।

মৃত শিশু সাবার খালাতো ভগ্নিপতি কাহালুর পালপাড়ার মোখলেসুর রহমান জানান, তার আদরের শ্যালিকা খেলতে খেলতে অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে লাশ হয়ে বের হলো। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকের ভুলেই সাবা মারা গেছে। অপারেশনের পরপরই তাদের আচরণেই তার প্রমাণ মেলে। শুধু এক আয়াকে রেখে ক্লিনিকের সবাই পালিয়ে যায়। মোখলেসুর রহমান  বলেন, ‘একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা শাহাদত হোসেন ও মা রুমি আকতার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ’

বগুড়া সদর থানার ওসি (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একটি শিশু মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ক্লিনিকে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। তবে স্বজনরা কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের রেসিডেনশিয়াল মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এবং নাক, কান ও গলা বিভাগের ডা. মাহমুদুল হক মামুন বলেন, ‘শিশু সাবার টনসিলের অপারেশনে কোনও ভুল হয়নি। অ্যানেসথেসিস্ট ডা. লায়েল শিশুটিকে অজ্ঞান করেছিলেন।’ তিনি (ডা. মামুন) দাবি করেন, ‘অপারেশনের পর জ্ঞান না ফেরায় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে শিশু সাবা মারা গেছে।’

 

 

/এপিএইচ/

x