সাদুল্যাপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ১৯:১৭ , ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৮

গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে দুই শতাধিকের বেশি মানুষের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও কথামতো বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে ওই চক্রের সদস্যরা তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এমনকি, তারা কয়েকজনের গায়েও হাত তুলেছে। ভুক্তভোগীরা সাদুল্যাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও মিলছে না প্রতিকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই চক্রে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলাকা পরিচালক, ঠিকাদার ও কিছু ইলেক্ট্রিশিয়ান রয়েছেন। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে এই চক্রের সদস্য আবদুল খালেক, সেরাজুল ও লাজু মিয়া কুপিয়ে জখম করে।

পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নাজিরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও শান্তি রঞ্জন দেবসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, গ্রামের ডিপটি মিয়ার বাড়ি থেকে জহরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক পরিবারে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (শঠিবাড়ি)। এজন্য বিদ্যুতের খুঁটি নির্মাণে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অন্য এক বেনামি ঠিকাদারের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেয়। এতে পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের গোফফার ও পলাশসহ তিন যুবক বিদ্যুতের খুঁটি নির্মাণ শুরু করেন। এর পাশাপাশি আবদুল খালেক মিয়া, সেরাজুল ইসলাম ও লাজু মিয়াসহ ওই দালাল চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার করে নেয়।

দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে ওই চক্রটি ৩ লাখ ১০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সদস্য ফি, মিটার ও সংযোগ ফি বাবদ একজন গ্রাহকের মাত্র ৪৫০ টাকা জমা দেওয়ার কথা। এছাড়া বাড়ি ওয়্যারিং করতে ৮শ’-একহাজার টাকা লাগার কথা।

সাদুল্যাপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কুপিয়ে জখমের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় আর কারা জড়িত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে বাকি জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রংপুর পল্লী সমিতি-১ সাদুল্যাপুর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম কাম মো. ছামছুল হক বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারে শুনেছি। ওই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই চক্র থেকে গ্রাহকদের রক্ষার জন্য এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিং করা হচ্ছে।’

 

/এমএ/

x