জ্বালানি তেল সংকটের মুখে উত্তরের ৮ জেলা

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর ০৮:০২ , ফেব্রুয়ারি ১৫ , ২০১৮

দিনাজপুরের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহকারী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একমাত্র প্রতিষ্ঠান পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপো তেল সংকটে পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে ৮ জেলার ৬৬২টি পাম্প ও এজেন্টগুলো। দিনের পর দিন ডিপোতে পড়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না পাম্প মালিক ও এজেন্টরা। বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সেচ নির্ভর বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপো ইনচার্জ হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ জানান, এই ডিপোর অধীনে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৬৬২টি পাম্প ও এজেন্টগুলোর দৈনিক চাহিদা ১৮ লাখ লিটার। কিন্তু  ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত তারা সরবরাহ পেয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার।

হেড ডিপো ইনচার্জ জানান, খুলনায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকলেও রেলওয়ের মাধ্যমে খুলনা থেকে জ্বালানি তেল আনতে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি জানান,ইতোপূর্বে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চারটি তেলের রেক (প্রতি রেকে ৩০টি তেলবাহী ওয়াগন) দিয়ে খুলনা থেকে পার্বতীপুরে তেল সরবরাহ করতো। কিন্তু বিরল-রাধিকাপুর হয়ে ভারত থেকে তেল আসার পর থেকে একটি রেক কমিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভারত থেকে তেল আসা বন্ধ হলেও রেকের সংখ্যা বৃদ্ধি করেনি রেলওয়ে বিভাগ। ফলে বর্তমানে তিনটি রেক (৯০টি ওয়াগন)দিয়ে তেল সরবরাহ করছে রেলবিভাগ।

হেড ডিপো ইনচার্জ আরও জানান, খুলনা থেকে পার্বতীপুরে তেলবাহী রেক আসতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যায়। ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সময়মতো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। তারা রেলওয়ে বিভাগকে বিষটি অবহিত করেছেন।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চিঠি পেয়েছি। তেল পরিবহনের বিষয়টি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করতে পারবো বলে আশা করছি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিটিও (তেল পরিবহনের ওয়াগন) নিয়ে সংকটে রয়েছেন। প্রায় ৪৫টি বিটিও মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী জানান, খুলনায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল রয়েছে। শুধু রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনও সময় পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপো জ্বালানি তেল ও ডিজেল শূন্য হয়ে যেতে পারে।

এদিকে দিনাজপুরের পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেন, তেল সংকটের কারণে মুখ চেনা ও প্রভাবশালী পাম্প মালিকদের তেল সরবরাহ করছে পার্বতীপুর ডিপো। অনেকে দিনের পর দিন তেলবাহী লরি নিয়ে পার্বতীপুরে পড়ে থাকলেও তেল পাচ্ছেন না। এ নিয়ে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি গ্রাহকদের ঠিকমত তেল সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।

পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপোতে তেল নিতে আসা বেশ ক’জন পেট্রোল পাম্প মালিক জানান, প্রতিদিন তাদের পাম্পে ৯ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার লিটার। তাও আবার একদিন বা দু’দিন পর পর। এভাবে চলতে থাকলে বোরো আবাদ নিয়ে সংকটে পড়বেন কৃষকরা।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পার্বতীপুর রেলওয়ে হেড ডিপো সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ৬৬২টি পাম্প ও এজেন্টগুলোর দৈনিক চাহিদা ১৮ লাখ লিটার জ্বালানি তেল। কিন্তু গতকাল বুধবার পর্যন্ত এই ডিপোতে তিন কোম্পানির মজুদ ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৮৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। এর মধ্যে পদ্মা কোম্পানির ৮ লাখ ২১ হাজার লিটার, যমুনা’র ২ লাখ ৯১ হাজার লিটার এবং মেঘনার ৫ লাখ ৭৩ হাজার লিটার। 

 

 

/এনআই/টিএন/

x