চড়ুই উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুই গাড়ি

রাজশাহী প্রতিনিধি ২৩:০০ , মার্চ ১৩ , ২০১৮

ঘুড়ির সুতোয় আটকে থাকা চড়ুই (ছবি- প্রতিনিধি)

একটি চড়ুই পাখি ঝুলছিল ঘুড়ির সুতায়। আর ঘুড়ির সুতাটি আটকে ছিল বিদ্যুতের তারে। পাখিটি মুক্তি পেতে উড়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তার সঙ্গী মাঝে মাঝেই লেজ নাড়িয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল বিষয়টি। কিন্তু সঙ্গীকে বাঁচাতে কিছুই করার ছিল না অসহায় পাখিটির!

ঘটনাস্থল রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি এলাকা। সমকালের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সৌরভ হাবিব বিষয়টি জানালা দিয়ে দেখে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করেন পাখিটিকে মুক্ত করতে। কিন্তু প্রায় তিরিশ ফুট উচ্চতায় আটকে থাকা পাখিটাকে মুক্ত করার কোনও পথ না পেয়ে হতাশ হন। এরপর ফোন করে খবর দেন ফায়ার সার্ভিসকে।

দুপুর ১২টার দিকে খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই দু’টি গাড়ি নিয়ে হাজির হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দু’টি ইউনিটে ১০ জন সদস্য। তারা মই দিয়ে উঠে মুহূর্তেই মুক্ত করেন পাখিটিকে। পাখিটি তখনই কিচিরমিচির শব্দ করে মুক্তির আনন্দে উড়ে যায় আকাশে। আর জড়ো হওয়া উৎসুক শত শত মানুষ তখন হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন।

চড়ুই উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা (ছবি- প্রতিনিধি)

সাংবাদিক সৌরভ হাবিব বলেন, ‘পাখি বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিস গাড়ি নিয়ে ছুটে আসবে তা ধারণায় ছিল না। আনেকটা হতাশা নিয়েই ফোন করি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দু’টি গাড়ি হুইসেল বাজাতে বাজাতে ছুটে আসে। এসময় অনেক মানুষ জুটে যায়। তারা ভেবেছিলেন কোথাও আগুন লেগেছে। ভুল ভাঙলো যখন পাখিটিতে দেখিয়ে দেই তখন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কোনও অবহেলা করেনি। বরং দ্রুত তারা মই লাগিয়ে পাখিটিকে মুক্ত করেছেন। পাখিটি মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই হাততালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলতে থাকেন, একটি প্রাণ বাঁচলো, মহান একটি কাজ হলো। আবার কেউ কেউ  তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলেন, একটি পাখির জন্য এত বাড়াবাড়ি ঠিক হয়নি।’

সাংবাদিক সৌরভ হাবিব বলেন, ‘একটি প্রাণ বাঁচানো প্রতিটি মানুষেরই দায়িত্ব হওয়া উচিত। এ কাজ দায়িত্ব নিয়ে করার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে ধন্যবাদ এবং এই বিভাগটিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করায় বর্তমান সরকারকেও ধন্যবাদ।’

চড়ুই উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা (ছবি- প্রতিনিধি)

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন আফিসার মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনও দুর্ঘটনায় সাড়া দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রত্যেকটা প্রাণেরই সমান মূল্য দিই। যেকোনও দুর্ঘটনায় আমরা ছুটে যাই। এটা আমাদের কর্তব্য। তাই যে কোনও ছোট-বড় দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে আমাদের খবর দিলে আমরা ছুটে যাবো। এতে হতাশা বা বিব্রত হওয়ার কোনও কারণ নেই। চড়ুই পাখি উদ্ধারে আমাদের দু’টি ইউনিটের ১০ জন সদস্য অংশ নেন।’

প্রাণ বৈচিত্র্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন বারসিক-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই কাজ অনেক মানবিক ও সচেতনামূলক। এভাবেই সব প্রাণের বেঁচে থাকার অধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

উৎসুক মানুষের ভিড় (ছবি- প্রতিনিধি)

 

/এমএ/

x