একরাম হত্যা: মিনার ও মিস্টারসহ খালাসপ্রাপ্তরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন

ফেনী প্রতিনিধি ১৯:১৫ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

একরাম হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মিনার

ফুলগাজি উপজেলার একরাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী মিনার ও পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১২ জন মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় ঘোষণার পর রাতে জেলা কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মিনার চৌধুরী ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে একরামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক।
জেলার শংকর কুমার মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক মঙ্গলবার বিকালে মিনার চৌধুরী ও জিয়াউল আলম মিস্টারকে একরাম হত্যা মামলা থেকে খালাস দেন।

এছাড়াও খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে কাজী শানান মাহমুদ, সাইদুল করিম পাপন, জাহিদ হোসেন ভূঞা, মো. বেলায়েত হোসেন পাটোয়ারি, মো. মাসুদ, আবদুর রহমান রউফ, ইকবাল, কাদের, কালা মিয়া ও রিপন গতকাল মুক্তি পান। ফারুক হোসেন ও আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিনের নামে একাধিক মামলা থাকায় তাদের মুক্তি মেলেনি। অন্য দুই জন মো.ইউনুছ ভূঞা শামীম ও সফিকুল জামিল পিয়াস পলাতক রয়েছে।

একরাম হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টার

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর সাফাই সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
মিনার চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান জানান, এ রায়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে। একরাম হত্যার ঘটনায় মিনার চৌধুরী খালাস পাওয়ায় তারা খুশি।

প্রসঙ্গত, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আমিনুল হক এই রায় দেন। রায়ে প্রধান আসামি জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মো. আদেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন চৌধুরী ওরফে জিহাদ চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার তৎকালীন ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুসহ ৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হককে কুপিয়ে ও গুলি করে গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন: বিএনপি নয় বছরে ৯ মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি: সেতুমন্ত্রী



/জেবি/

x