আমেরিকার ‘ব্ল্যাক বিউটি’র চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়

মাসুদ আলম, কুমিল্লা ১১:৪০ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৮

ব্ল্যাক বিউটি জাতের টমেটো

বাইরে চকচকে কালো রং, কখনও তা কিছুটা নীলচে, সেই সঙ্গে সবুজের আবাহন দুই বা তিন রঙের মিশেলে বাইরের আবরণটা এমনই। আর কাটলেই ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়ে টকটকে লাল রং। পৃথিবীর বিরল প্রজাতির একটি সবজি এটি। মূলত আমেরিকায় চাষ হয় এই ‘ব্ল্যাক বিউটি’ জাতের টমেটো। তবে মার্কিন মুলুক থেকে তা এখন চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে। ব্যক্তি উদ্যোগে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় বাসার আঙিনায় চাষ করা হচ্ছে এই টমেটোর।

শৌখিন চাষি আহমেদ জামিল সেলিমের বাগান ঘুরে সরেজমিন দেখা যায়, একতলা বিশিষ্ট বাসার সামনের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূলের গাছ লাগিয়েছেন তিনি। বাড়ির সামনে ফুল-ফল ও সবজির বাগিচা থাকার ফলে বাড়িটিকেও অপূর্ব দেখাচ্ছে। তার বাগানে পাঁচ প্রজাতির টমেটো লাগানো হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক বিউটি টমেটো, চেরি টেমেটো, টাইগার এলা টমেটো, পর্কচপ টমেটো এবং দেশীয় প্রজাতির টেমেটো। সেখানে বাতাসে দোল খাচ্ছে ব্ল্যাক বিউটি জাতের টমেটো। তিনি এই বীজ আমেরিকা থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। এখন ব্যতিক্রম এই প্রজাতির টমেটো দেখতে উৎসুক লোকজন তার বাসার আঙিনায় ভিড় করছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাগানের মালিক আহমেদ জামিল সেলিম জানান, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। তিনি সেখানে বিভিন্ন ফসলের চাষ করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধান ও সবজি। এছাড়া মাছও চাষ করেন। তিনি শখের বশে বিভিন্ন প্রজাতির ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করছেন। ভালো ফলন হলে কৃষকদের মধ্যে সেগুলোর বীজ বিতরণ করেন। সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে টমেটোর বীজ সংগ্রহ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকা থেকে আনা ব্ল্যাক বিউটি, পর্নচপ, টাইগার এলা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা চেরি টমেটোর বীজ।

কুমিল্লায় চাষ হচ্ছে ব্ল্যাক বিউটি জাতের টমেটো

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, কালো রঙের এই ‘ব্ল্যাক বিউটি’ টমেটো খুবই মাংসল এবং খেতে চমৎকার। এর রং এতটাই গাঢ় যে কখনও কখনও এর ত্বক পুরোপুরি চকচকে নীলচে কালো রং ধারণ করে। এর ভেতরের অংশ গাঢ় লাল এবং সবচেয়ে সুস্বাদু টমেটোগুলোর একটি এটি। এর চমৎকার স্বাদ এবং রঙের জন্য গোটা আমেরিকায় এটি বহুল প্রশংসিত। এটির অ্যান্থোসায়ানিন ( ব্লুবেরি এবং ব্ল্যাক বেরির মতো) উৎপন্ন করে, যে কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে এর স্বাদ আরও দ্বিগুণ বেড়ে যায় এবং এটি অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। এই ব্ল্যাক বিউটি টমেটের গাছ প্রায় চার ফুট লম্বা হয়। ঠিকমত যত্ন করলে এতে প্রচুর ফলন হয়ে থাকে। এই টমেটো পাকার জন্য রোদের প্রয়োজন হয়। তাই বসন্তকালের মাঝামাঝি সময়ে টমেটো পাকতে দেখা যায়। চমৎকার স্বাদ ও রঙের এই টমেটো নিঃসন্দেহে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ বলে জানান কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরেজমিন ব্ল্যাক বিউটি টমেটো দেখেছি। এটি শীতপ্রধান দেশের টমেটো। বাংলাদেশে প্রথম এর চাষ করলেন আহমেদ জামিল সেলিম। দেশে গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা গেলে ভালো সাফল্য আসবে বলে ধারণা করছি। সাধারণ টমেটো গাছ থেকে এটি অনেক বড়। এই টমেটো কৃষক পর্যায়ে গেলে প্রতি গাছে ৮ থেকে ১০ কেজি টমেটো পাওয়া যেতে পারে। বাণিজ্যিক চাষ করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কুমিল্লার বেসরকারি কৃষি বিষয়ক সংগঠন ‘আধুনিক কৃষিমনা’র প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘ব্ল্যাক বিউটি টমেটা অনেক সুস্বাদু। ভেতরে পানির অংশ কম থাকায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যাবে। ব্যতিক্রম রঙ হওয়ায় কৃষকও ভালো দাম পাবেন।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, ব্ল্যাক বিউটি’র চাষ এখনও বাংলাদেশে শুরু হয়নি। এই প্রজাতির টমেটো বাংলাদেশের মধ্যে কুমিল্লায় এই প্রথম চাষ করা হয়েছে।

 

 

/এএইচ/চেক-এমওএফ/

x