নাটোরে ১৬ বিঘা জমিতে ধানের বদলে চিটা, বিপাকে কৃষক

নাটোর প্রতিনিধি ১০:৫৬ , মে ১৭ , ২০১৮

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নে ১৬ বিঘা জমিতে ধানের বদলে চিটা হয়েছে। এতে ৫ কৃষক পরিবার বিপাকে পড়েছেন। তাদের দাবি, তারা স্থানীয় একটি দোকান থেকে ধানের বীজ কিনেছিল। তবে কোম্পানি প্রতিনিধি বলেছে, ওই বীজগুলো তাদের নয়।
মাঝগাঁও -রুমশৈল গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান, আলমগীর হোসেন, জামাল উদ্দিন, জিয়াউল রহমান ও আরিফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বনপাড়া বাজারের মজিদ বীজ ভান্ডার ও হানিফ বীজ ভান্ডার থেকে তারা গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বীজগুলি কেনেন। বীজগুলো থেকে ধানের চারাগাছ জন্মে। শীষে ধানও দেখা যায়। কিন্তু ধানগুলো কাটার আগ মুহূর্তে ধানগাছগুলো মরে যায়। এ অবস্থায় ধানগাছগুলো কাটতে গিয়ে তারা দেখেন, ধানের সবগুলোই চিটা।
এক প্রশ্নের জবাবে কৃষকরা দাবি করেন, ওই ধানের বীজের প্যাকেটে উৎপাদক হিসেবে বায়ার বায়োসায়েন্স (প্রা.) লিমিটেড ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার উত্তরার বায়ার ক্রপসায়েন্স লেখা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, এ ব্যাপারে তারা বীজ বিক্রেতা মজিদ সেখ ও হানিফ সেখকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, বায়ার কোম্পানি থেকে এ বীজ তারা কিনেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, বায়ার ক্রপসায়েন্সের স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি রাকিব হোসেন জানান, ওই দুই বীজ ভান্ডারের কাছে কোম্পানি কোনও বীজই বিক্রি করেনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল আহমেদ জানান, রিপোর্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি এই বীজগুলো সরাসরি ধান থেকে বীজ করে থাকে তবে ফলন আসবে না। ঘটনাটা হয়তো তাই ঘটেছে। হাইব্রিডের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে ক্রসিং করে বীজ উদপাদন করলে তবেই ধানের ফলন হবে।
মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল আলীম বলেন, সরেজমিনে ওই ধানের জমিতে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, এক বিঘা জমিতে ধানগুলোর চাষে তাদের খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। ফলন হলে তারা বিঘা প্রতি ১৭ হাজার টাকার ধান পেতেন। ধান রোপন করতে অনেকেই চড়া সুদে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও’র কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে। এ অবস্থায় চিটা হওয়ায় তাদের পথে বসতে হয়েছে।
তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রশাসন ও সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

/এআর/

x