সাতক্ষীরায় নারী পাচারকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৯:২৬ , মে ১৭ , ২০১৮

 

 

কারাদণ্ড

সাতক্ষীরায় এক কিশোরীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও  ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মো.হাবিবুর রহমান (৪২)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্যাংদহা গ্রামের কেয়ামুদ্দিন গাজীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৮ জুন সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্যাংদহা গ্রামের হাবিবুর রহমান তার প্রতিবেশী এক কিশোরীকে (১৬) তার শ্বশুর বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে থাকালীন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের রহমতুল্লার ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক ও বাক আঁচড়া গ্রামের কালু শেখের ছেলে আক্তারুজ্জামান এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সেখানে তাকে তিন দিন রাখার পর ১১ জুন বিকেলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে খাবারের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয় হাবিবুর। পরে তাকে বেহুশ অবস্থায় ভারতের মুম্বাই শহরের বিজয়নগর পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। দীর্ঘ চার মাস সেখানে আটক রেখে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এক পর্যায়ে ২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ির সঙ্গে সে বাংলাদেশে ফিরে আসে। ২৬ অক্টোবর সে হাবিবুর রহমান, ছিদ্দিক ও আক্তারুজ্জামান এর নাম উল্লেখ করে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক শফিকুল আলম  ২০০৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আসামি হাবিবুর রহমানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পাঁচ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আসামি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক হোসনে আরা আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৫(১) ধারায় তার জাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আসামি পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নাদিরা পারভিন।

 

/জেবি/

x