রংপুর সিটি করপোরেশন চাকরি হারালেন অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন

রংপুর প্রতিনিধি ২৩:০২ , মে ১৭ , ২০১৮

রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের প্রধান ফটক (ছবি- প্রতিনিধি)

রংপুর সিটি করপোরেশনে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাত ৯টার দিকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আকতার হোসেন আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আকতার হোসেন আজাদ বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের কাছে থাকা সব ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতেও বলা হয়েছে।’

রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে অনেকটা গোপনে ২০১২ সালে প্রায় ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন সদ্য সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু। সূত্রের দাবি, এই ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়োগ কমিটিও গঠন করা হয়নি। এমনকি, তাদের নিয়োগের বেলায় কোনও লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি। উপরন্তু ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু এই ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেন।

সূত্র আরও জানায়, ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামে। এজন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুস সোবহানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি রংপুর সিটি করপোরেশনে কয়েক দফায় এসে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলপত্র ঘেঁটে জব্দ করে নিয়ে যান। কোনও ধরনের নিয়ম না মেনে ও ঘুষ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের এ অভিযোগ এখনও তদন্ত করছে দুদক।

সূত্র জানায়, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শরফুদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টুর আমলে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন বন্ধ করে দেন। একইসঙ্গে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। কয়েকদিন আগে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ২৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৭৭ জনের ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব আবু মুসা জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে আসতে নিষেধ করে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে থাকা অফিসের ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যেতেও বলেছেন।

ঝন্টুর সময়ে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা গোলজার হোসেন আদর। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আমি আমার কাছে থাকা ফাইল বুঝিয়ে দিয়েছি।’

অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ব্যাপারে মোবাইল ফোনে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি, তাদের নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবৈধ ছিল।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।

 

/এমএ/

x