১২শ টাকার ইলিশ এখন ১৭শ

ইব্রাহিম রনি, চাঁদপুর ২৩:০৮ , মে ১৭ , ২০১৮

চাঁদপুরের রূপালি ইলিশ

দাম বেশি হওয়ায় ইলিশ না কিনেই বাজার ছাড়ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম, তাই দামি বেশি। জাটকা রক্ষায় দুই মাসের অভয়াশ্রম শুরু হওয়ার আগে চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছের আড়তে যে মাছের দাম ছিল ১২শ টাকা এখন সেই মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ১৭শ টাকা। প্রতি মণ ইলিশের দাম বেড়েছে ২০ হাজার টাকা।

চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা ১ কেজি ২শ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি ইলিশের দাম হাঁকছেন ২৫০০ টাকা। আর ৯শ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১৯০০ থেকে ২০০০ টাকা ও চারশ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ টাকা হাঁকছেন।

চাঁদপুরের বিপণীবাগ বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে আসা হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি একটি কোম্পানিতে জব করি। মাসে যে বেতন পাই, এক হালি ইলিশ কিনতে তার অর্ধেক চলে যাবে। রমজানে আমরা একটু ভালো খাবার চাই। তাই মাছের ক্ষেত্রে ইলিশটাই সবার পছন্দ। কিন্তু বাজারে ইলিশের যে দাম তাতে করে আমার পক্ষে ইলিশ খাওয়া সম্ভব না।'

বৃহস্পতিবার বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ১ কেজি ২শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা (প্রতি মণ ৮০ হাজার থেকে ৮৪ হাজার) দরে বিক্রি হচ্ছে। যা মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রমের দুই মাস আগে ছিল ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা (প্রতি মণ ৬০ হাজার থেকে ৬৪ হাজার টাকা)। এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ থেকে ১৮৫০ টাকা (প্রতি মণ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার) দরে। যা আগে ছিল ১২০০ টাকা (প্রতি মণ ৪৮ হাজার টাকা)। ৭শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ এখন দাম ১৩০০ টাকা (প্রতি মণ ৫২ হাজার) আর আগে ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা (প্রতি মণ ২৬ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা)। ৫শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি এখন ৯০০ টাকা (মণ ৩৬ হাজার) দরে। আগে ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা (প্রতি মণ ১৬ থেকে ২০ হাজার)। আর এছাড়া ৩শ থেকে ৪শ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫শ থেকে ৬০০ টাকা দরে (প্রতি মণ ২৪ হাজার)। আগে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।


স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখন ইলিশের চড়া দাম। অন্তত আমাদের মতো সামান্য আয়ের মানুষের পক্ষে রমজানে ইলিশ খাওয়া সম্ভব হবে না। শুধু ইলিশ কেন, ২০০ টাকার মুরগির দাম হয়েছে ৩০০ টাকা। সব কিছুর দামই বেড়েছে।’
চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী ইমান গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাছ আমদানি দুই মাস আগের চেয়ে এখন অনেক কম। অভয়াশ্রমের আগে ইলিশের ভরা মৌসুম ছিল। তখন দক্ষিণাঞ্চল তথা সাগর অঞ্চল থেকে প্রচুর ইলিশ আসতো। এখন ওইসব এলাকা থেকে মাছ আসে না বললেই চলে। যে মাছগুলো এখন চাঁদপুরের বাজারে আসছে, সেগুলো চাঁদপুর নদী অঞ্চলেরই মাছ। সাগর অঞ্চল থেকে মাছ এলে দাম কিছুটা কমতো।’
রিকশাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা রমজানে ইলিশ খাবো এটি এখন স্বপ্ন। ছেলে-মেয়েদের ইলিশের আবদার রাখতে পুরো দিনের আয় দিয়ে ছোট সাইজের এক কেজি ইলিশ কিনেছি ৫৫০ টাকায়। এখন অন্যান্য বাজার করতে হবে বাকিতে না হয় ঋণ করে।’
চাঁদপুর ক্যাবের সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরবরাহ কম, কারসাজি, বাড়তি মুনাফার উদ্দেশ্যে মজুদকরণ এবং রমজান উপলক্ষে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ক্রয়ের মানসিকতাই ইলিশের দাম বৃদ্ধির কারণ। মাছের সরবরাহ কম থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করি।’ ক্যাবের সভাপতি বলেন, ‘আমরা রিপোর্ট নিচ্ছি। ক্যাব অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে। প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছু করার নেই।’

চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজারে ইলিশ
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন মাছ খুব কম ধরা পড়ছে, সরবরাহও কম। তাই দাম বেশি। রেইনি সিজনটা পিছিয়ে গেছে। তাই এখন মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঘোলা পানির ঢল নামলে ডাউন থেকে মাছগুলো আপে আসবে। তখন প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।’
জেলা মার্কেটিং এনএম রেজাউল করিম বলেন, ‘এ সময়টাতে বাজারে প্রচুর ইলিশ থাকার কথা। কিন্তু ঝড়ের কারণে নদী উত্তাল থাকায় জেলেরা নদীতে যেতে পারছে না। সেজন্য হয়তো বাজারে ইলিশের ক্রাইসিস এবং দাম বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘কোল্ড-স্টোরেজ ছাড়া আড়তে ইলিশ খুব একটা মজুত করে ধরে রাখার সুযোগ নেই। তবে এখন যদি কেউ ইলিশ মজুদ করে, সেটি আমরা দেখবো।’
তিনি বলেন, ‘রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। ১৮ মে সকাল ১০টায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি বড় টিম বাজার পরিদর্শনে নামবে। প্রতিদিন দু’টি টিম কাজ করবে। বাজারে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া, ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে প্রচারপত্র বিলি করা হবে।’

/এনআই/

x