বাংলা ট্রিবিউনে খবর প্রকাশের পর মিমের পাশে প্রশাসন

আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ ০১:০৭ , জুন ১৩ , ২০১৮

মিমের বাড়িতে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা‘অর্থ সংকটে বন্ধের পথে মিমের লেখাপড়া’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে খবর প্রকাশের পর অনেকে তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুসফিকুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিক এলাহী মিমের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তারা আর্থিক সহযোগিতাও দিয়েছেন।

শারমিন আক্তার মিম জানান, মঙ্গলবার (১২ জুন) দুপুরে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাদের বাড়িতে আসেন। তারা ৫ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন। বলে গেছেন লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এছাড়া পরিবারের কর্ম সংস্থানের জন্য ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ থেকে সহযোগিতা করার কথাও বলেছেন তারা।

মিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইতোমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়েরা তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করেছেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ব্যবস্থা করে দেবেন। এছাড়া নওগাঁ ইনকাম ট্যাক্স অফিস থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার বাবাসহ তাকে অফিসে যেতে বলেছে। আবার অনেকে নাম প্রকাশ  না করার শর্তে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

শারমিন আক্তার বলেন, ‘আপনার যেভাবে সবাই এগিয়ে এসেছেন, তাতে করে আমার আইনজীবী হওয়ার পথে কোনও  বাধায়ই আর আটকাতে পারবে না।’

শারমিনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা আমার মেয়েকে নিয়ে খবর প্রকাশ করায় অনেকে আমার মেয়ের পড়ালেখার খোঁজখবর নিচ্ছে। সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে।’

মান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শারমীম আক্তার মিমের পড়ালেখা যাতে চালিয়ে নিতে পারে, তার ব্যবস্থা নেবো।’

শারমিন আক্তার মিম ২০০৯ সালে ৫ম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষায় মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫১০ নম্বর এবং মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এ-প্লাসসহ বৃত্তি লাভ করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে এ-প্লাস এবং ২০১৭ সালে নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ অর্জন করেন। ২০১৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।

তার বাবা নওগাঁর মান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের রিকশাচালক জামাল হোসেন। মা মোরশেদা খাতুন গৃহিনী।

 

/এনআই/

x