ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড় ধস ও বন্যার আশঙ্কা

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার ১৬:০৫ , জুন ১৩ , ২০১৮

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতকক্সবাজারে সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে জনসচেতনায় মাইকিং। এছাড়া জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা।

গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারে চলছে ভারী বর্ষণ। এ কারণে সাগরের জলোচ্ছ্বাস ও পাহাড়ি ঢলে জেলার অর্ধশতাধিক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এতে করে পানিবন্দি মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর ধলঘাটায় প্রায় ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপে বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতউজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং, কৈয়ারবিল, বরইতলী, কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, লইক্ষ্যারচর, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও, ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকার গবাদি পশু, পাকা ধান, পানের বরজ, বর্ষাকালীন শাকসবজি ও বিভিন্ন জাতের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছে প্লাবিত হওয়া এলাকার মানুষ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ভারী বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যেই কক্সবাজার শহরের ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১২ নং ওয়ার্ডে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশে দিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। গত রোববার এক ‘জরুরি ঘোষণা’ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি লোকজনের নিরাপত্তা নিয়ে এক বৈঠক করা হয়। বৈঠকের পর ওইসব লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশ জারি করা হয়। তার অংশ হিসেবে মাইকিংও করা হয়।’ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কক্সবাজার পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজার পৌর শহের দুটি মাইক নামানো হয়েছে। পৌর শহরের প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, ডি-ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবলিক লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকবেন তাদের সেহেরিরও ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের মালপত্র নিরাপত্তার জন্য পাহারা ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া সরকারি আবহাওয়াবিদ ফরমান আলী বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকার জন্য ৩ নম্বর সংকেত বলৎবত রয়েছে। এ কারণে আরও দু-একদিন ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ মি. মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে এ পর্যন্ত ৪১.৬ মি. মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। মাছ ধরার নৌ-যান গুলোতে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বেশি হলে ভূমি ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।’।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি কেউ থাকতে পারবে না। তাদেরকে সরে যেতেই হবে। না সরলেও আমরা তাদের বাধ্য করবো। এছাড়াও ভারী বর্ষণে মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকাগুলো আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’

/এআর/

x