এবার ঈদে রাজশাহীর ঘরে-বাইরে নির্বাচনি আমেজ

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী ১৮:৪০ , জুন ১৩ , ২০১৮

 

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা (ছবি- প্রতিনিধি)
স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দে যোগ দিতে প্রতিবছরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কর্মজীবী মানুষের রাজশাহীতে ফেরেন। পাশাপাশি অনেকেই দেশের বাইরে থেকেও উড়ে আসেন এই মহানগরীতে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই ঈদেও স্বজনদের সান্নিধ্যে ঈদ কাটাতে রাজশাহী ফিরেছেন ঘরমুখো মানুষেরা। তবে, এবার বাড়তি যোগ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ। নগরীর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। ঈদ উপলক্ষে পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সময় প্রার্থীরা চালাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা।

ঈদে উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর অনেকেই ফিরবেন এই শহরে। ভোটের সময় ভোট দিতেও আসেন তারা। অন্য সময় তাদের কাছে প্রচারণা চালানোর সুযোগ না থাকায় এই সময়টাকেই বেছে নেবেন প্রার্থীরা। একইসঙ্গে কর্মী-সমর্থকরাও টার্গেট করে ভোট চাইবেন। তাই ঈদের দিনও সরব থাকবেন প্রার্থীরা।

আগাম ঈদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মেয়র বুলবুল (ছবি- প্রতিনিধি)

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালের সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির রাগীব আহসান মুন্না ও  জাতীয় পার্টির ওয়াশিউর রহমান দোলনও।

এদিকে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল খুব সরব না হলেও হঠাৎ হঠাৎ তাকে প্রচারণায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। মেয়র প্রার্থীদের বাইরে রয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলররা। তারাও প্রচারণায় সরব হয়েছেন। নিজ উদ্যোগে করছেন জনসংযোগও। নির্বাচনের এখনও প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেই গণসংযোগ করছেন প্রার্থীরা।

ভোট চাইছেন জাপা প্রার্থী (ছবি- প্রতিনিধি)

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে দুই সপ্তাহ আগে রাজশাহীতে এসেছেন সৌদিপ্রবাসী রেজাউল ইসলাম। আবার ২৩ জুন  সৌদি আরবের উদ্দেশে উড়াল দেবেন। তিনি সৌদি আরবের বিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কাটার সময় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতবার ঈদেও এসেছিলাম। কিন্তু এবার আমাদের শহরের চেহারা নির্বাচনমুখর লাগছে। চারদিকে প্রার্থীদের পোস্টার লাগানো। পড়া-মহল্লায় নির্বাচন-বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে আড্ডা।’

ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘গত ঈদে দুই মাসের ছুটি পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার ছুটি খুবই কম। তাই ২৩ জুন আবার সৌদি আরবে ফিরে যেতে হবে। এজন্য ইচ্ছা থাকলেও ভোট দিয়ে যেতে পারছি না।’

ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে লিটনের পক্ষে পোস্টারিং (ছবি- প্রতিনিধি)

ঢাকায় চাকরি করেন রাজশাহীর বিলসিমলা এলাকার সাফাতুজ্জামান। তিনিও ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে এসেছেন রাজশাহীতে। ঈদ শেষে  (১৮ জুন) ঢাকায় ফিরে যাবেন। তবে ভোটের দিন আবার আসবেন নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। তিনি বলেন, ‘সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হলে আরও ভালো লাগতো। তবে নগরীতে পোস্টারে শুধুই লিটনময় হয়ে গেছে। আশা করি, অন্য দলের প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে যাবে নগরী। ভালো লাগছে এবার ঈদে এসে নির্বাচনি আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।’

নগরীর রামচন্দ্রপুর বাসার রোড এলাকার খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমার মামা ডাবলু ইটালি প্রবাসী। তিনি এবার ঈদ করার জন্য রাজশাহীতে আসছেন। দশ দিন পর আবার তিনি চলে যাবেন। ভোট দিতে না পারলেও রাজশাহীতে এসে নির্বাচনি আমেজটা পাবেন। কারণ প্রচার-প্রচারণা চলছে প্রার্থীদের।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এই নগরের ব্যাপক উন্নয়ন করার পরও ২০১৩ সালের নির্বাচনে ধর্মীয় প্রোপাগান্ডার কারণে জিততে পারিনি। এ বছর আর সেই ভুল করতে চাই না। ফলে আমাদের জন্য পরিশ্রমটাও অনেক বেশি। অন্যরা ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা চালিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়, তাই তাদের প্রচারণা না চালালেও চলে। আমি যেহেতু এই নগরীর উন্নয়ন করার মাধ্যমেই ক্ষমতায় যেতে চাই। তাই আমাদের পরিশ্রমটাও বেশি। ঈদের দিনও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। সেদিনও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, এতিম ও শিশুপল্লিতে খাবার বিতরণসহ নানা কাজের মধ্যেই থাকতে হবে।’

পোস্টারে রমজানের শুভেচ্ছা মেয়র বুলবুলের (ছবি- প্রতিনিধি)

বাসদ-সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাগীব আহসান মুন্না বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা তো শুরু করেছি। এখন আছি সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিটিং করা ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই আছি। ঈদেও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। ওই সময়ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, খোঁজখবর নেওয়ার কাজই করবো।’

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু সেলিম বলেন, ‘আমরা নগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে ঠিক করে রেখেছি। প্রস্তুতিও রয়েছে। প্রচার প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এখন কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। কেন্দ্রের নির্দেশ পেলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে নামবো।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পর দলের নির্বাহী কমিটির এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আগেও ছিল, বর্তমানেও আছে। এমনকি  ঈদের দিনও থাকবে নগরবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। তাদের ভোটেই আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। তাই তাদের সঙ্গে সবসময় গণসংযোগ হয়।’

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন তার কর্মীরা (ছবি- প্রতিনিধি)

উল্লেখ্য, রাজশাহীতে মেয়র পদে প্রথম ভোট হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। সেবার জিতেছিলেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ২০০২ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। ২০০৮ সালে মিনু কারাগারে থাকায় প্রার্থী হননি। বিএনপি থেকে প্রার্থী হন ওই সময়ের যুবদল নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তবে, ২০১৩ সালে লিটনকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বুলবুল। 

/এমএনএইচ/

x