অর্থাভাবে কষ্টে দিন কাটছে কমরু মিয়ার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের

সাইফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার ১৫:০২ , জুন ১৪ , ২০১৮

কমরু মিয়ার প্রথম স্ত্রী জলিকা খাতুন

২০১৭ সালের ১৪ জুন লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে লাগা আগুন কেড়ে নেয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমরু মিয়াসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রাণ। মৌলভীবাজার সদরে এই পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে অতিকষ্টে দিন পার করছেন। মানসিক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছেন কমরু মিয়ার প্রথম স্ত্রী জলিকা খাতুন। শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজার সদরের খৈশাউড়া গ্রামে কমরু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দারিদ্র্য আর বয়সের ভারে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী জলিকা খাতুন। ঠিক মতো কথাও বলতে পারেন না।স্বামীর অনেক স্মৃতিই মনে করতে পারেন না তিনি।    

বৃদ্ধা  জলিকা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার পর থেকে খুব কষ্ট ভোগ করতেছি। আগে তো লন্ডন থেকে মাসে মাসে টাকা পাঠাইতো। খাবার কিনতাম, ওষুধ কিনতাম। এখন ওষুধ কিনতে পারতেছি না। টাকার অভাবে কোনও কিছুই করতে পারতেছি না। আপনারা যদি সরকারের কাছ থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করে দেন, তবে ওষুধ কিনতে পারবো, খাবার কিনতে পারবো।’  

দেশে থাকা  কমরু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া বলেন, ‘লন্ডনে  আমার বাবার দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের পাঁচ সদস্য মারা গেলেও, এক ভাই বেঁচে আছেন। আব্দুল হাকিম নামে আমার সৎ ভাই এখন লন্ডনে থাকেন। সে আমাকে বলেছিল, লন্ডন সরকার থেকে টাকা-পয়সা পাবে। কিছু টাকা আমাকেও দেবে। এখনও কিছুই দেয়নি। ফোন করলে সৎভাই  বলে, দেশে আমার কেউ নেই। আমি তোমাদের চিনি না’

সুজন মিয়া বলেন,  ‘অনেকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, সেদেশের সরকারের কাছ থেকে আমার সৎ ভাই অনেক টাকা পাইছে। লন্ডনে সে রাজকীয় জীবনযাপন করছে, আর আমি দেশে কষ্ট ভোগ করছি।’ 

কমরু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া

তিনি জানান, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার সময় আমার বাবার বয়স ছিল ৯০ বছর। বাবা দুইটি বিয়ে করেন। এরমধ্যে প্রথম স্ত্রী আমার মা জলিকা খাতুন দেশে থাকেন। আমার বাবা আর কয়েক বছর ধরে আমার সৎ মা এবং সৎ ভাইবোনদের নিয়ে লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৭ তলার ১৪৪ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকতেন না আমার সৎ ভাই আব্দুল হাকিম। ফলে ওই দিনের আগুন থেকে সে বেঁচে যায়। ১৪ জুনের ওই আগুনে পুড়ে মারা যান আমার বাবা কমরু মিয়া, সৎ মা ও ভাইসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য।

জানা  যায়, ১৯৭৩ সালে প্রথম স্ত্রী  জলিকা খাতুনকে দেশে রেখে কমরু মিয়া লন্ডনে চলে যান। সেসময় মাঝেমধ্যে তিনি দেশে আসা-যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে কমরু মিয়া প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে রাবেয়া বেগম নামে একজনকে বিয়ে করেন। তারপর কমরু মিয়া রাবেয়া বেগমকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান।

কমরু মিয়ার পরিবার জানায়, তার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রী জলিকা খাতুন  (৮০)। তার তিন সন্তান সুজন মিয়া (৫০), মিনা  বেগম (৫২) ও রুসনা বেগম (৬০)দেশে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও চার সন্তান— আব্দুল হাকিম (৩৫), আব্দুল হামিদ (৩২), আব্দুল হানিফ (২৫) ও হুসনা আক্তার তানিমা (২০)-কে নিয়ে কমরু মিয়া লন্ডনে থাকতেন।

 

/আইএ/এপিএইচ/

x