স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে!

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ১৫:০৩ , জুন ১৪ , ২০১৮

স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়মানিকগঞ্জের আরিচা ও পাবনার কাজীরহাট নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বুধবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে আরিচা স্পিডবোট মালিক সমিতিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

আরিচা ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে গেছে। এই অজুহাতে স্পিডবোটে আরিচা থেকে কাজীরহাট পর্যন্ত প্রতি যাত্রীর ভাড়া ২০০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ২০টি স্পিডবোট যাত্রী পারাপার করে আসছে। তবে এসব স্পিডবোটের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌপুলিশের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিআইজি) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান সাংবাদিকদের জানান, স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, আরিচা লঞ্চঘাটের পাশে স্পিডবোটের কাউন্টার। সেখানে বসে এক কর্মচারী টিকিটে অতিরিক্ত ভাড়ার সিলমোহল যুক্ত করছেন। পাশে বসে সুপারভাইজার খোকন মিয়া যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করছেন। এ সময় অতিরিক্ত টিকিটের মূল্য রাখার জন্য পাবনার এক যাত্রীর সঙ্গে খোকনের বিতর্ক হয়। পরে বাধ্য হয়ে ওই যাত্রী টিকিট কিনে স্পিডবোটের দিকে যান।

স্পিডবোট ঘাটে কথা হয় ঢাকার সিটি ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ঈদের ছুটিতে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি এলাকায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার গাবতলী থেকে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আরিচায় এসেছেন। এখানে স্পিডবোটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে।’

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্পিডবোটের মালিক আবদুল কুদ্দুস দাবি করেন, যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছিয়া সুলতানা বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে বুধবার বেলা ১২টার দিকে স্পিডবোট মালিক সমিতিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

আরও পড়ুন- চাপ নেই পাটুরিয়া ফেরিঘাটে

/এফএস/

x