মানিকগঞ্জে যুবলীগ নেতার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ধরনা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ০৭:১৯ , জুলাই ১৩ , ২০১৮

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি লিটন মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে উঠেছেন শাহানাজ বেগম। মঙ্গলবার রাত থেকে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে অবস্থান নিলে যুবলীগ নেতা ও দুই  সন্তানের জনক লিটন মিয়াকে আর দেখা যায়নি। শাহানাজ জানিয়েছেন, তার স্বামীর বন্ধু ছিলেন লিটন মিয়া। তারা একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। সেখান থেকেই লিটন মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় এবং সম্পর্ক। লিটনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তার তালাক হয়ে গেছে। আর এতদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলা লিটন মিয়াও তাকে এখন বিয়ে করছেন না। তাই তিনি বিয়ের দাবিতে বাড়িতে এসে উঠেছেন। এদিকে শাহানাজের উপস্থিতিতে ভেঙে পড়েছেন লিটনের স্ত্রী।

যুবলীগ নেতা লিটন মিয়া মাটির ব্যবসা ও রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতিও। বুধবার (১১ জুলাই)  ধুলন্ডি গ্রামে লিটন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দায় একটি কাঠের বেঞ্চে বসে আছেন শাহানাজ বেগম। শাহানাজ বাঙ্গালা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের কন্যা এবং ঘিওর সদর ইউনিয়নের মাইলাগী গ্রামের কামাল শিকদারের স্ত্রী। এদিকে শাহানাজকে দেখার জন্য গ্রামের উৎসুক নারী পুরুষের ভিড় লেগে যায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে। বিরূপ পরিস্থিতির মুখে যুবলীগ নেতা লিটনের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান অঝোরে কাঁদছিলেন।

শাহানাজ বেগম জানান, লিটন মিয়ার সাথে তার স্বামী কামাল শিকদার মাটির ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে লিটন ঘন ঘন তাদের বাড়িতে আসা যাওয়ার সুযোগ পেত। এর মধ্য দিয়েই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি তার স্বামী কামাল টের পেয়ে যায় এবং মারধর করে। এ নিয়ে শাহনাজের সঙ্গে তার স্বামীর মনোমালিন্য তীব্র হয়ে ওঠে। সপ্তাহ দুয়েক আগে শেষ পর্যন্ত শাহানাজ কাজীর মাধ্যমে তার স্বামীর কাছ থেকে তালাক নেয় এবং বাপের বাড়িতে চলে যায়।

শাহনাজের দাবি, বাপের বাড়িতে থাকা অবস্থাতেও  লিটন মিয়া তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কোনও ডাক্তারি পরীক্ষা না করালেও তার দাবি, তিনি দুই মাসের গর্ভবতী এবং লিটন তার অনাগত সন্তানের পিতা। তাই উপায় না দেখে তাকে লিটনের বাড়িতে উঠতে হয়েছে। সেখানে যাওয়ার আগে নাকি তিনি জানতেন না লিটন বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে।

এদিকে লিটনের স্ত্রী জানিয়েছেন ভিন্ন কথা, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের কথা অল্প কয়েকদিন আগে শুনেছি। বিষয়টি জানার পর আমার স্বামীকে অনেক চেষ্টা করেও ওই পথ থেকে ফেরাতে পারিনি। ওই নারীকে অনেক আকুতি মিনতি করেও বোঝাতে পারিনি। এখন আমার বাড়ি এসে উঠেছে।’

লিটনের ভগ্নিপতি আমির হোসেনের দাবি, শাহানাজ অর্থের লোভে লিটনের বাড়িতে এসে উঠেছে। তার ভাষ্য, ‘সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পুরুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।’

বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাফিজের ভাষ্য, ‘শুনেছি যে নারীর সাথে লিটনের সম্পর্ক তার চরিত্রও ভালো না। এর আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে এলাকায় বিচার-সালিশ হয়েছে। তবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে লিটনের সাংগঠনিকভাবে শাস্তি হবে।’

এদিকে শাহানাজ বেগমকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে মঙ্গলবার কামাল শিকদার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাহানাজকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

/এএমএ/বিএ/চেক-এমওএফ/

x