বিল্ডিং কোড না মেনেই বহুতল ভবন হচ্ছে মোংলা বন্দরে

আবুল হাসান, মোংলা ০৯:৫৯ , জুলাই ১৩ , ২০১৮

বিল্ডিং কোড না মেনেই বহুতল ভবন হচ্ছে মোংলা বন্দরেবিল্ডিং কোড না মেনেই মোংলা বন্দর এলাকায় নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। বেশ কিছু ভবনের কাজ শেষ হওয়ায় সেখানে ব্যাংক-বীমাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও চলছে। অভিযোগ আছে, এসব জেনেও ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোংলা শহরের শেখ আব্দুল হাই সড়ক, তালুকদার আব্দুল খালেক রোড, নিউ মেইন রোড এবং প্রেসক্লাব রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেট এলাকায় বেশ কিছু বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এবং কিছু ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জায়গায় এসব বহুতল নির্মাণ করা হলেও মালিকদের কাছে এর বৈধ কাগজপত্রই নেই। মালিকরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক-দুই তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো পাঁচ তলা পর্যন্ত ভবন করছেন। কিন্তু এসব জেনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে রেখেছে।বিল্ডিং কোড না মেনেই বহুতল ভবন হচ্ছে মোংলা বন্দরে

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি শাখা সূত্র জানায়, মোংলা শহরে (পুরাতন মোংলা) বন্দর কর্তৃপক্ষের ১৩৪ দশমিক ৬০ একর নিজস্ব জমি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব জমি ইজারায় ব্যবসায়ীদের দিয়েছে। জমি ইজারা পাওয়া ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই অনুমোদন না নিয়ে এবং বিল্ডিং কোড অনুসারণ না করে তিন-পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন এবং ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তা ভাড়া দিয়েছেন।

শহরের শেহালাবুনিয়া ও বাজার এলাকার বাসিন্দা শাজাহান সিদ্দিকি ও শিবলী আলম জানান, বন্দরের সম্পত্তি শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে বিল্ডিং কোড না মেনে ব্যবসায়ীরা এসব ভবন করছেন। এজন্য তাদের কিছু দালাল নিয়োগ করা আছে। দালালরাই মূলত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেন।

তবে ব্যবসায়ী আনোয়ার, হেমায়েত শেখ এবং জালাল পাটোয়ারীসহ একাধিক ব্যক্তির দাবি, বন্দরের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়েই তারা অতিরিক্ত ভবন করেছেন।বিল্ডিং কোড না মেনেই বহুতল ভবন হচ্ছে মোংলা বন্দরে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বহুতল ভবন মালিক জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের একতলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল। তবে তারা বন্দরের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে তা তিনতলা করেছেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শওকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বন্দর এলাকায় বিল্ডিং নির্মাণের জন্য কনসালটিং ফার্ম নিয়োগ দিয়ে দোতালা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এসব বিল্ডিং নির্মাণের সময় কোনও মালিকই কনসালটিং ফার্ম নিয়োগ দেয়নি। তবে যারা নিয়ম না মেনে এসব ভবন করেছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলেও জানান এই প্রকৌশলী।

বন্দরের সম্পত্তি শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাকে ম্যানেজ করে একতলার অনুমোদন নিয়ে তিন-পাঁচতলা ভবন করা হচ্ছে তা আমি জানি না। তবে ফাইল দেখে বলতে পারবো তিন-পাঁচতলা ভবন করা হচ্ছে কিনা।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি কেউ বন্দরের অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণ করে থাকে, তাহলে তার বা তাদের  বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন- দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক (ভিডিও)

/এমএ/আপ-এফএস/

x