আদালতে বিচারককে গালাগালি, দুই এপিপিসহ ৪ আইনজীবীকে শোকজ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ১০:৫০ , জুলাই ১৩ , ২০১৮

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জে আসামির জামিন চেয়ে না পাওয়ায়  বিচারককে গালিগালাজ ও চেয়ার ছুড়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই এপিপিসহ চার আইনজীবীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১  এর এজলাসে বিচারকাজ চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই চার আইনজীবীকে শোকজ করেছেন আদালত।  আদালতের বিচারক  ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অভিযুক্ত আইনজীবীরা হলেন,এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ পান্না,এপিপি অ্যাডভোকেট এস এম দীন আমিন,অ্যাডভোকেট তৈফিকুর রহমান জয় ও অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। 

মাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ৯ জুলাই শাহজাদপুর জুডিশিয়াল আদালতে শাহজাদপুর থানার একটি জিআর মামলার সাত আসামির জামিন চেয়ে অ্যাডভোকেট তৈফিকুর রহমান জয় আবেদন করেন। এপিপি আব্দুর রউফ পান্না ও এস এম দীন আমিন সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর হওয়া সত্ত্বেও তারা আসামির আইনজীবীর পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন। পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ আদেশের পরই আইনজীবীরা আসামিদের নিজ জিম্মায় ফেরত পেতে এবং আসামিরা আত্মসমর্পণ করেননি মর্মে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করেন। প্রকাশ্য আদালতে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর সংক্রান্ত আদেশ দেওয়ার পর আইনগতভাবে এই ধরনের সুযোগ জুডিশিয়াল আদালতে না থাকায় মৌখিকভাবে বিচারক ওই আবেদন অগ্রাহ্য করেন।

এরপর ১০ জুলাই বেলা ১২টার দিকে একই আদালতে বিচারকাজ চলাকালে অ্যাডভোকেট  তৈফিকুর রহমান জয় ও অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী এজলাসে গিয়ে বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল ইসলামের কাছে একটি দরখাস্ত দেন। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে অ্যাডভোকেট  তৈফিকুর রহমান জয় বলেন ‘আপনি তো গতকাল আসামিদের জামিন দিলেন না এবং বার ও বেঞ্চের সর্ম্পক রক্ষা করলেন না।’ এরপরই অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘তুই এজলাস থেকে নামতে পারবি না।’ এবং উভয় আইনজীবীই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এসময় সাইফুল ইসলাম তাকে ম্যাজিস্ট্রেটকে চেয়ার উঠিয়ে আঘাত করার জন্য এগিয়ে যান বলে মাজিস্ট্রেট তার আদেশে উল্লেখ করেছেন। এসময় অন্যান্য আইনজীবী, কোর্টের কর্মচারী ও কর্তব্যরত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে খাসকামরায় নিয়ে গিয়ে তাকে রক্ষা করেন।

এ ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এনে আদালতের কাজে অবৈধভাবে বাধা সৃষ্টি, ভীতিকর পরিস্থিতি ও ত্রাস সৃষ্টি, আদালত অবমাননা ও পেশাগত অপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় অ্যাডভোকেট তৈফিকুর রহমান জয় ও অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন বিষয়টি বার কাউন্সিলকে অবহিত করা হবে না সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া  হয়েছে। এছাড়াও এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ পান্না ও এপিপি অ্যাডভোকেট এস এম দীন আমিন রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত এপিপি হওয়ায় তাদের পেশাগত দায়িত্ব ছিল জামিনে বাধা দেওয়া। কিন্তু তারা তা না করে আসামিদের জামিনের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন যা পেশাগত অসদাচরণের শামিল বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধেও কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের এপিপির দায়িত্ব বাতিলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে না সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ পান্না ও অ্যাডভোকেট তৈফিকুর রহমান জয় সাংবাদিকদের জানান, ওই মামলার নথিতে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নাই। তাই ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন দিতে বাধ্য, কিন্তু তিনি দেননি। আবার নটপ্লেস চাইলে তাতেও রাজি হননি। যে কারণে আদালতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চেয়ার নিক্ষেপের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওসার আহম্মেদ লিটন জানান, ‘মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ সাহেব ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনজীবী উভয়ের অভিভাবক। তাই বিষয়টি সমাধানের  উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

 

/এসএসএ/এফএস/

x