বিএসএফ’র গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারানো রাসেলের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ মানবাধিকার কমিশনের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ১১:০৫ , জুলাই ১৪ , ২০১৮

বিএসএফের গুলিতে চোখ হারালো রাসেল মিয়াকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ এর ছোঁড়া বুলেটের স্প্লিন্টারের আঘাতে স্কুল ছাত্র রাসেল মিয়ার (১৪) ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। রাসেলের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা তদন্ত করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছে কমিশন। নির্দেশ পাওয়ার পরপরই শুক্রবার (১৩ জুলাই) অতিরিক্ত জেলা মেজ্রিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি তদন্ত দল জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাটারি (নোয়াকালীটারি) গ্রামে রাসেল মিয়াদের বাড়িতে যান। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাদল চন্দ্র হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাদল চন্দ্র হালদার জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য ঘটনা তদন্তে আমরা শুক্রবার (১৩ জুলাই) রাসেল মিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলাম। রাসেল মিয়ার মুখেই আমরা ঘটনার বর্ণনা শুনেছি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা শিগগিরই মানবাধিকার কমিশনের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবো।’

তদন্ত দলের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, লালমনিরহাট বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধীন গোরকমন্ডপ ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুল কুদ্দুস, বালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন এবং নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

এদিকে আহত রাসেলের বড়ভাই রুবেল ইসলাম জানান, ‘ঢাকায় ভারতীয় হাই-কমিশনের ফাস্ট জেনারেল সেক্রেটারি রাজেশ চন্দ্র রায় তার অফিসে ডেকে নিয়ে আহত রাসেলের উন্নত চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতীয় হাই-কমিশনের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

ভুক্তভোগী রাসেল মিয়া জানায়, তার ডান চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছে। ওই চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পারছে না সে। রাসেল মিয়া আরও জানায়, বাম চোখে সামান্য দৃষ্টিশক্তি রয়েছে। তবে ডান চোখে গুলির স্পিন্টার থাকায় ওই চোখে মাঝে মাঝেই যন্ত্রণা করে।

প্রসঙ্গত, রাসেল মিয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নোয়াখালিটারী গ্রামের আব্দুল হানিফ মিয়ার ছেলে ও বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে ফুলবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশের ২০ গজ অভ্যন্তরে গবাদী পশুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আহত হয় রাসেল মিয়া। চোখে স্প্লিন্টারের আঘাতে ঘটনার দিনই রাসেলকে রংপুরের প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকলেও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়নি রাসেল মিয়া। ডান চোখে স্প্লিন্টারবিদ্ধ অবস্থায়ই বাড়িতে ফিরতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে এক চোখে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে রাসেল।

আরও পড়ুন- চোখে স্প্লিন্টার নিয়েই বাড়ি ফিরতে হলো বিএসএফ’র গুলিতে আহত রাসেলকে

/এফএস/

x