কলেজছাত্রকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আটক ৭

যশোর প্রতিনিধি ০১:২৮ , সেপ্টেম্বর ১৫ , ২০১৮

যশোরযশোর সরকারি এমএম কলেজের পুরনো ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে আব্দুর রহিম (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সাতজনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এই সাতজনের মধ্যে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক আল মাসুম রুম্মন রয়েছেন। তারা সবাই ওই ছাত্রাবাসের বাসিন্দা এবং এমএম কলেজের শিক্ষার্থী। অন্য পাঁচজনের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

অপহৃত আব্দুর রহিম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শানবান্ধা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। সে কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় এখনও থানায় মামলা হয়নি।

আব্দুর রহিমের অভিযোগ, ১২ দিন আগে সে তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকায় এমএম কলেজের পুরনো ছাত্রাবাসে ওঠে। সেখানে থেকে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় সরকারি একটি বিশেষ বাহিনীতে চাকরির আশায়। গত বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ওই ছাত্রাবাসের রাশেদ, রুম্মনসহ সাতজন তাকে রুম থেকে ডেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে বলে, ‘তোর সাথে একটি মেয়ের প্রেম আছে। তাকে বিয়ে করতে হবে। ওই মেয়ে আমাদের এক লাখ টাকা দেবে। তুই যদি ২ লাখ টাকা দিস তাহলে তোকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’ এরপর থেকে তার বাড়িতে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গভীররাত পর্যন্ত চলে দেনদরবার। বিষয়টি তার (রহিমের) বাবা আব্দুল মান্নানকে জানানো হলে তিনি যশোরে আসেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে কোতোয়ালি থানার এসআই এইচএম মাহমুদ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং সাতজনকে আটক করেন।


থানার একটি সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগের একটি অংশ ওই সাতজনকে ছাড়ানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে শুক্রবার দিনভর যোগাযোগ করতে থাকেন।

জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিস্তারিত ঘটনা আমি জানি না। একজন ছাত্রকে পুরনো হোস্টেলে আটকে রাখার ঘটনা শুনেছি। এটি আমরা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করছি। তদন্তে দোষি প্রমাণিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যোগাযোগ করা হলে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর আবুল বাশারের কাছে ঘটনার সম্পর্কে জানতে তিনি এসআই এইচএম মাহমুদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এসআই এইচএম মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কথিত মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত আব্দুর রহিমের একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ছেলেটি এখন ওই মেয়েটিকে বিয়ে করতে চাইছে না। সে কারণে ছাত্রলীগ নেতাদের মেয়েপক্ষ বিষয়টি জানালে তারা ছেলেটিকে আটকে রাখে এবং মেয়েপক্ষকে বিষয়টি জানায়। এক হিসেবে একে অপহরণ বা জিম্মি করে রাখা বলা যায়। থানায় দু’পক্ষই রয়েছে; ওসি স্যার এলে বিষয়টির সুরাহা হবে।’

/এআর/

x