‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবিধান পরিপন্থী’

খুলনা প্রতিনিধি ১৭:১৭ , অক্টোবর ০৬ , ২০১৮

খুলনায় সেমিনারে আলোচনা করেন বক্তরা‘সংবিধানে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে, তা মানুষের বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষণ্ন করবে। এ আইনের মধ্যদিয়ে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করা হয়েছে। আইনটি সংবিধান পরিপন্থী, তাই এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট হওয়া উচিত।’ শনিবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খুলনা শহরের উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়নে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্যের খুলনা মহানগর শাখা এই সেমিনারের আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, ‘৩৯ ধারায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে অনুসন্ধানী সংবাদিকতা ধ্বংস হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না। দুর্নীতিবাজদের আড়াল করতে এ আইন মন্ত্রিসভা ও সংসদে পাশ করা হয়েছে। এটি স্বাধীন দেশের উপযোগী নয়। এটি কালো আইন বলে চিহ্নিত।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মো. এনায়েত আলী। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুসরণ করা হলে জনকল্যাণ বিরোধী আইন করা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য স্বৈরশাসকরা কালো আইন করতে চায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবিধান বিরোধী।’

বিশেষ অতিথি দৈনিক অণির্বানের সম্পাদক অধ্যক্ষ আলী আহমেদ বলেন, ‘বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্র পরিপূর্ণতা পায় না। গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংস হলে সাংবাদিকতার অঙ্গহানি হবে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে খুলনা থেকে আন্দোলন গড়ে উঠবে।’

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘সংবিধান পরিপন্থী ডিজিটাল আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করতে হবে। গণতন্ত্রহরণকারী কালো আইনটি স্বাধীন দেশের মানুষ মেনে নেবে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধ্বংস হলে সত্য জানা থেকে জাতী বঞ্চিত হবে। এ কালো আইনের বিরুদ্ধে সব পেশার মানুষকে আন্দোলন করতে হবে।’

সেমিনারের সভাপতি ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ হলে স্বৈরতন্ত্র জেকে বসবে, গণতন্ত্রের কবর হবে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন– খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. রেজাউল করিম। জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ, নগর মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, নগর জেএসডির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের স্থানীয় সমন্বয়কারী সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য কুমার দাশ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন– স্থানীয় সাংবাদিক কাজী মোতাহার রহমান বাবু। স্বাগত ভাষণ দেন– নগর নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব ও ক্রিড়া সংগঠক মো. মোস্তাকুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন– নাগরিক ঐক্যের সদর থানা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিএম সাইফুল ইসলাম।

/আইএ/

x