ভ্রাম্যমাণ আদালতকালে দোকানিদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ২৩:৩২ , অক্টোবর ১১ , ২০১৮

জিয়া বাজারকুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতকালে দোকানিদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। কুড়িগ্রাম শহরের জিয়া বাজারে বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) এই ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার দায়ে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা খাতুন ও কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, পলিথিনের ব্যাগে পণ্য রাখা ও তা বিক্রির দায়ে মারিয়া ও নীরব স্টোরকে ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

জিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা খাতুন আদালত পরিচালনা করার সময় ব্যবসায়ীদের কোনও অনুরোধ কানে নেননি। তিনি উল্টো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।

জিয়া বাজার ক্ষুদ্র বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শমসের আলী বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসু আলোচনা হয়। পাটের বস্তা ব্যবহারের জন্য আমরা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের কাছে এক মাস সময় চাইলে তিনি সেই সময়ও মঞ্জুর করেন। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার থেকে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ হঠাৎ করে ব্যবসায়ীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। আমি নিজেও পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছি। পরে কী হয়েছে, আমি ঠিক বলতে পারছি না।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘সরকার কর্তৃক কয়েকটি খাদ্য পণ্যে পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকলেও জিয়া বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা মানছেন না। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহার না করে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহারের দায়ে নীরব স্টোর ও মারিয়া স্টোর নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জরিমানা করা হয়। তখন বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের পাটের তৈরি বস্তা ব্যবহারের বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হলেও ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ হঠাৎ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের ওপর ঢিল ছুঁড়তে থাকে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। তখন জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেই। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে।’

মারিয়া স্টোরের মালিক আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমি খুচরা ব্যবসায়ী। মাত্র তিন মাস হলো আমি দোকান দিয়েছি। আমি জানতাম না চাল, ডাল ও মসলা রাখার জন্য পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। আমরা আড়তদারদের কাছ থেকে যেভাবে বস্তা ভর্তি মালামাল কিনে আনি, সেই বস্তার মুখ খুলেই বিক্রি করি। আমি ম্যাজিস্ট্রেট স্যারকে বলেছি যে, এখন যেহেতু জানলাম, এখন থেকে পাটের বস্তা ব্যবহার করবো। কিন্তু, তিনি এরপরও আমাকে জরিমানা করেছেন; আমি জরিমানার টাকাও দিয়েছি।’ ব্যবসায়ীদের উত্তেজিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা (ভ্রাম্যমাণ আদালত) এক-দেড় মাস পরপর বাজারে এসে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নানা অংকের টাকা জরিমানা করেন। আজও এসে আমিসহ দুই দোকানদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ নিয়ে আমাদের ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি কথা বলে জরিমানার টাকাও তাদেরকে দেন। কিন্তু, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা পুলিশ হঠাৎ করে সেক্রেটারিকে লাঠিপেটা করলে ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।’

জিয়া বাজারে পুলিশের লাঠিচার্জভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ জনগণ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনে নেন, পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নন। যেহেতু খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন, সেহেতু তারাও পণ্য সংরক্ষণ; সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের জুন মাসে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩’ সংশোধন করে নতুন করে আরও ১১টি পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পণ্যগুলো হলো- পেঁয়াজ, আদা, রসুন, মরিচ, হলুদ, ধনে, ডাল, আলু, আটা, ময়দা ও তুষ-খুদ-কুঁড়া। সব মিলিয়ে মোট ১৭টি পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

 

 

/এনআই/

x