থানায় আটকে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ১৫:১৭ , অক্টোবর ১২ , ২০১৮




নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপননারাণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে থানায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাধন বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) নির্যাতিত ঠিকাদার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট আশোক কুমার দত্তের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালত তার নির্দেশনায় বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকতার্কে দিয়ে এ তদন্ত করাতে হবে।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় তার ক্রয়কৃত ১০ কোটি টাকা মূল্যের (দেড় একর ভূমি) একটি জমি নিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সামিট ফয়েলস পলিমার লিমিটেডের মালিকের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধ নিয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার অফিসে একটি মামলা চলছে বলেও তিনি জানান। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি জমিতে বায়না সূত্রে মালিক হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

মামলায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত রবিবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তার বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ তার হাত পা ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে থানায় নিয়ে এসে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখে। এ সময় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক জমিটি ছেড়ে না দিলে তাকে ক্রস ফায়ারে হত্যারও হুমকি দেন। ক্রস ফায়ার থেকে বাঁচতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেন তারা।

তবে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ওসির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে রুমের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। তিনি জ্ঞান হায়িয়ে ফেললে পুলিশ তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে পুনরায় থানায় এনে ফের নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরেরদিন বিকালে স্থানীয় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুসহ স্থানীয় লোকজন থানায় গেলে একটি সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে যুবলীগ সভাপতির জিন্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (৮ অক্টোবর) রাতে তিনি নারায়ণগঞ্জের তিনশ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করান।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মনির হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশোক কুমার দত্ত মামলাটি আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন তিনি।

আদালত নির্দেশনায় বাদীকে নির্যাতন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে ফের নির্যাতন এবং তার কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।

অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা রয়েছে। এক পক্ষ ওই জমিটি দখলে রেখেছিলো। তাকে আটক করে আনার সময় পড়ে গিয়ে সে আহত হয়। তাকে কোনও শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়া তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতে মামলা হওয়ার পরই নির্দেশনা পেয়েছি। এর আগে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আাদালতের প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/টিটি/

x