রাজশাহীতে সমাবেশের জন্য প্রস্তুত ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

রাজশাহী প্রতিনিধি ০৩:৪৪ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

রাজশাহীআজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মঞ্চ প্রস্তুতসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা। সমাবেশস্থলে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে আমরা পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সমাবেশস্থলে মাঠ প্রস্তুত করা, মঞ্চ তৈরি ও ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাইক লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে।’

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, ‘সমাবেশ যাতে সফল না হয় সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বাধা প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলে যৌথ মহড়া দিচ্ছে। বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মাইকিং চলাকালে পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে।’

রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। তারা প্রচার মাইকের সঙ্গে থাকা পোস্টার, ব্যানার খুলে নিচ্ছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এছাড়া নেতাকর্মীরা যাতে বাইরের জেলাগুলো থেকে না আসতে পারে তার জন্য রাজশাহীগামী সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

মিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে বাধা প্রদান করা হয়। তারপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে। সমাবেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, কর্ণেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সকল নেতারা যোগ দেবেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে মহানগরীতে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ও নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীজুড়ে টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ। সমাবেশস্থলেও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সমাবেশস্থলে ঢোকার পূর্বে চেক করে ঢোকানো হবে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।’

 

/এসএসএ/