জামালপুরে বেগুন চাষে লাভের আশায় কৃষকরা

বিশ্বজিত দেব, জামালপুর ১৩:০৩ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

বেগুন-ক্ষেতজামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে শীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়ে উঠছে বেগুন গাছ। জেলার সবজি চাষিরা শীতের মৌসুমে চাষ করেন বড় গোল বেগুন। এই বেগুন গাছকে টাকার গাছ হিসেবে মনে করেন স্থানীয় কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ। এদিকে বেগুন ক্ষেতের অবস্থা ভাল হওয়ায় হাসি ফুটে উঠেছে কৃষকদের মুখে।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার জন্য ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের কৃষকরা বেগুন চাষে ঝুকে পড়েছেন। এ মৌসুমে ইসলামপুরে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রায় চার হাজার একর জমিতে বেগুন চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার একর বেশি।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বারি-১ জাতের বেগুন ইসলামপুরে বেশি চাষ হয়ে থাকে। সারাদেশে ইসলামপুরের বেগুনের নাম ব্যাপক এবং দামও রয়েছে বেশ ভালো। একর প্রতি কমপক্ষে ১৫ মেট্রিক টন ফলন হয়।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ভালো দাম পেলে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেগুন থেকে কৃষকদের এ বছর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আয় হবে বলে আমরা আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বেগুন চাষিদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলার চর হাতিজা গ্রামের বেগুন চাষি আলাউদ্দিন মিয়া, আব্দুল বারেক, সুরুজ্জামান ও কাদের সেক জানান, এ বছর বন্যা ও বৃষ্টি কম হওয়ায় বেগুন ক্ষেত অনেক ভালো হয়েছে।

ইসলামপুরের ডিগ্রিরচর গ্রামের বেগুন চাষি আব্দুল আওয়াল, আক্কাস মিয়া ও রেজাউল করিম জানান, এই এলাকার মানুষ বেগুন ক্ষেতকে টাকার ক্ষেত, আর বেগুন গাছকে টাকার গাছ বলে থাকেন। এখন কৃষকদের একটু কষ্ট হলেও বেগুন ধরা শুরু হলে প্রতি দিন ঘরে টাকা আসতে শুরু করবে।

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে এক হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ৫০/৬০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের মাটি বেগুন চাষে জন্য উপযযোগী হওয়ায় লাভজনক এ ফসল চাষে আগ্রহী কৃষকরা।

/আইএ/

x